দুধের পর পাউরুটি, মূল্যবৃদ্ধির নতুন ধাক্কায় চাপে মধ্যবিত্ত

মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় ফের বড়সড় ধাক্কা। পেট্রল-ডিজেল, সিএনজি এবং দুধের দাম বৃদ্ধির পর এবার বেড়ে গেল পাউরুটির দামও। মুম্বাই এবং সংলগ্ন এলাকায় পাউরুটির একাধিক ব্র্যান্ড প্যাকেটপিছু ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, খুব শীঘ্রই দেশের অন্যান্য শহরেও একই পথে হাঁটতে পারে বড় সংস্থাগুলি।

সবচেয়ে আগে দাম বাড়িয়েছে মডার্ন ফুডস্-এর জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘মডার্ন ব্রেড’। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ১৬ মে থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সূত্রের খবর, এবার ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ এবং উইবস্-এর মতো অন্যান্য সংস্থাও মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটতে পারে।

নতুন দামে ৪০০ গ্রাম স্যান্ডউইচ ব্রেডের দাম ৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৫ টাকা। হোল হুইট ব্রেড ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মাল্টিগ্রেইন ব্রেড ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ব্রাউন ব্রেড ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পৌঁছেছে। ছোট সাইজের সাদা পাউরুটির দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২২ টাকা এবং ছোট ব্রাউন ব্রেডের দাম ২৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা।


সংস্থাগুলির দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে উৎপাদন এবং পরিবহণ খরচের লাগামছাড়া বৃদ্ধি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের দামে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে জ্বালানির দাম দু’দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহণ ব্যয় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। কলকাতায় বর্তমানে পেট্রলের দাম লিটারপিছু ১০৯ টাকা ৭০ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৬ টাকা ৭ পয়সায় পৌঁছেছে।

এর পাশাপাশি টাকার দামের পতনের জেরে আমদানিনির্ভর কাঁচামালের খরচও বেড়েছে। পাউরুটির মোড়কে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কাঁচামালের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফলে ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমে যাওয়ায় প্যাকেজিং ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বেকারিতে ব্যবহৃত গ্যাস, প্রিজারভেটিভ এবং অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদকদের মুনাফার মার্জিন কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাড়তি বোঝা চাপছে সাধারণ মানুষের ঘাড়েই।

উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক দিন আগেই আমূল এবং মাদার ডেয়ারি দেশজুড়ে দুধের দাম লিটারপিছু ২ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে সকালের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার— দুধ ও পাউরুটি— দু’টিরই দাম একসঙ্গে বাড়ায় মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে বিস্কুট, কেক, প্যাকেটজাত খাবার এবং অন্যান্য বেকারি পণ্যের দামও বাড়তে পারে। কারণ ভারতে অধিকাংশ খাদ্যপণ্য সড়কপথেই পরিবহণ করা হয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লেই তার প্রভাব সরাসরি বাজারদরে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।