সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’ বিল পেশ হয়নি। তার কয়েকদিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা টিভিকে প্রধান বিজয়ের বৈঠক ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে কি কিছুটা সরে আসছেন বিজয়?
বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির ৩১তম আঞ্চলিক পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে শাহের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি ডিলিমিটেশন নিয়ে কেন্দ্রের কাছে স্পষ্ট আইনি নিশ্চয়তা দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে যে রাজ্যগুলি সফল হয়েছে, তাদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের হার যেন কমে না যায়। অর্থাৎ, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যের লোকসভায় বর্তমান রাজনৈতিক গুরুত্ব বজায় রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে কেন্দ্রকে।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ১২ আগস্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে পাশ হওয়া প্রস্তাবে লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-এ স্থির রাখা এবং রাজ্যগুলির বর্তমান আসনবণ্টন বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর বিজয়ের প্রকাশ্য বক্তব্যে ৫৪৩ আসনের সীমা বজায় রাখার কথা সরাসরি উঠে আসেনি। বরং তিনি রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বের ‘শতাংশের ভাগ’ বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন। ফলে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এটি কার্যত অবস্থান নরম করার ইঙ্গিত।
ডিএমকে সাংসদ দয়ানিধি মারান কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, বিধানসভা ও সর্বদলীয় বৈঠকে এক অবস্থান নেওয়ার পর শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিজয়ের সুর বদলে গিয়েছে। এআইএডিএমকের অভিযোগ, কেন্দ্র যা বলছে বিজয়ও এখন সেটাই বলছেন। এএমএমকে প্রধান টিটিভি দিনাকরণও টিভিকের অবস্থানকে ‘নাটক’ বলে আক্রমণ করেছেন।
তবে টিভিকের দাবি, ডিলিমিটেশন নিয়ে দলের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। দলের বক্তব্য, দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমানো যাবে না, এই দাবিতেই তারা অনড়। মূল বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সম্ভাব্য নতুন সীমানা পুনর্বিন্যাস। ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলি তুলনায় বেশি আসন পেতে পারে বলে আশঙ্কা দক্ষিণের রাজ্যগুলির। তাঁদের যুক্তি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের জন্য দক্ষিণকে ‘শাস্তি’ দেওয়া উচিত নয়। সেই সঙ্গে লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব কমার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কর বণ্টনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: দিল্লির পেলেটকাণ্ডে জখম পড়ুয়াকে সঙ্গে নিয়ে থানার সামনে ধর্না রাহুল-প্রিয়াঙ্কার
এখনও নতুন ডিলিমিটেশন বিল সংসদে পেশ হয়নি। ফলে বিজয়ের বক্তব্য কৌশলগত অবস্থান, নাকি সত্যিই ‘ইউ-টার্ন’, তা স্পষ্ট নয়। তবে শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ইস্যুতে তামিল রাজনীতির উত্তাপ যে আরও বেড়েছে, তা স্পষ্ট।