১৮ বছর পর মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় সব অভিযুক্ত খালাস, প্রমাণের অভাবে ইতি টানল আদালত

প্রায় দু দশক ধরে চলা ২০০৬ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অবশেষে সমাপ্তি ঘটল। বুধবার বম্বে হাইকোর্ট জানিয়ে দিল, শেষ চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মতো কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।

ফলে মামলার সব অভিযুক্তই বেকসুর খালাস পেলেন। বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর এবং শ্যাম চন্দকের বেঞ্চ এই রায় দেয়। এর আগে বিশেষ এনআইএ আদালত প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর-সহ ৭ জনকে খালাস দিয়ে দেয়। এ দিন বাকি চার অভিযুক্ত— মনোহর নারওয়ারিয়া, রাজেন্দ্র চৌধুরী, ধান সিং এবং লোকেশ শর্মাকেও মুক্তি দেওয়া হয়। এর ফলে এনআইএ-র দীর্ঘ আইনি লড়াই কার্যত শেষ হল।

২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে শবেবরাতের সময় কবরস্থানের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। শতাধিক মানুষ আহত হন। তদন্তের প্রথম পর্যায়ে অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড বা এটিএস কয়েকজন মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তদন্ত যায় সিবিআইয়ের হাতে। পরবর্তীতে ভিন্ন ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব তুলে ধরে এনআইএ নতুন করে তদন্ত শুরু করে ।


তদন্তের এক পর্যায়ে দাবি করা হয়, হামলার নেপথ্যে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের যোগ থাকতে পারে। এই মামলায় গ্রেপ্তার হন প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর এবং প্রাক্তন সেনা আধিকারিক প্রসাদ শ্রীকান্ত পুরোহিত। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। আদালতে মামলার শুনানিতে উঠে আসে, মামলায় কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে বিস্ফোরণের সরাসরি যোগ প্রমাণ করা যায়নি।

ফরেন্সিক পরীক্ষাতেও বিস্ফোরক তৈরির নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। এমনকি যেসব জায়গা থেকে আরডিএক্স ব্যবহারের দাবি করা হয়েছিল, সেখানেও তার উপস্থিতির কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, দেরিতে করা টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।

এছাড়া কিছু অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিও আগে আদালত খারিজ করে দেয়, যা তদন্তকে আরও দুর্বল করে। ফলে বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এত দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা চালানো সম্ভব নয়।

এই মামলার একটি রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী করা হয়নি।

আইনি প্রক্রিয়ার ইতি ঘটলেও ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে এই রায় মিশ্র অনুভূতির। বহু মানুষ এখনও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির অপেক্ষায়। প্রায় ১৮ বছর পরও মালেগাঁও বিস্ফোরণের আসল অপরাধীদের পরিচয় অজানাই রয়ে গেল— এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।