ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অধীরের

মুর্শিদাবাদ জেলার একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিক আক্রান্ত হচ্ছেন ভিনরাজ্যে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে সেই সব রাজ্যে। বাংলায় কথা বলার অপরাধে ওড়িশায় দুষ্কৃতীদের আক্রমণে মারা গিয়েছেন সুতি থানা এলাকার বাসিন্দা পরিবাহী এদিক জুয়েল রানা। সম্প্রতি সম্বলপুরে মারধর করা হয় মুর্শিদাবাদের আরেক পরিযায়ী শ্রমিক ইজাজ আলিকে। আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিনমাসে ওড়িশার বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৩৫জন পরিযায়ী শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন।

এরকম পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাতে এবং তাঁদের নিরাপত্তার দাবিতে রবিবার বিজেপি শাসিত ওড়িশায় যান বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা সর্বভারতীয় কংগ্রেস কার্যকরী কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী। ওড়িশায় পৌঁছেই তিনি প্রথমে সম্বলপুরে যান। এই এলাকাতেই দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে খুন করে জুয়েল রাণাকে। যে জায়গায় তিনি খুন হন সেই জায়গাটি তিনি পরিদর্শন করেন।

কথা বলেন সেখানকার মানুষের সঙ্গে। সঙ্গে ছিলেন ওড়িশা রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্ব। এরপর অধীর চৌধুরী পৌঁছন পেনসিল মোড় এলাকার লেবার চকে। এখানেই বাংলার অধিক সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক থাকেন। তাঁদের সঙ্গে তিনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। স্থানীয় পুলিশের অসহযোগিতা এবং পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে কীভাবে পায়ে হেঁটে তিনি তাঁদের কাছে পৌঁছেছেন, সেকথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ শোনেন ও আশ্বস্ত করেন। তাঁদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন এবং সতর্ক ভাবে থাকার কথা বলেছেন।

কারও কোনও বিপদে হলে যাতে স্থানীয় কংগ্রেস কার্যালয়ে বা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সেকথাও অধীর চৌধুরী পরিযায়ী শ্রমিকদের বলেন। এদিন কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের তিনি পরিচয়ও করিয়ে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ওড়িশা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলার শ্রমিকদের উপর হেনস্থা, অত্যাচার বন্ধ না হলে আগামীতে তিনি ওড়িশায় অবস্থান-বিক্ষোভ করবেন। এদিকে অধীর চৌধুরী তাঁদের সঙ্গে দেখা করায় এবং কথা বলায়, কিছুটা হলেও আতঙ্ক কেটেছে বলে জানান বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। এঁদের মধ্যে অধিকাংশের বাড়ি মুর্শিদাবাদে।