আড়াই হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা গড়ছে আদানি গোষ্ঠী

Adani Group Photo-SNS

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলছে আদানি গোষ্ঠী। রবিবার এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস। সংস্থার দাবি, এই কারখানা চালু হলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং এর সঙ্গে ৫০টিরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থা যুক্ত হবে।

আদানি গোষ্ঠীর বক্তব্য, কেন্দ্রের আত্মনির্ভর ভারত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। শিবপুরীর কারখানায় মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হবে। পাসাপাশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য উন্নত কঠিন জ্বালানি বা কম্পোজিট প্রপেল্যান্ট উৎপাদনের ব্যবস্থা, টিএনটি-সহ বিভিন্ন বিস্ফোরক উপাদান তৈরির পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।

আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের কর্ণধার জিৎ আদানি জানিয়েছেন, এই প্রকল্প শুধু একটি কারখানা হিসেবে গড়ে উঠবে না, গোটা অঞ্চলে প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি নতুন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে। স্থানীয় শিল্প, সরবরাহকারী সংস্থা এবং দক্ষ কর্মীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তাঁর দাবি।


সূত্রের খবর, এই কারখানায় ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিওর সঙ্গে যৌথভাবে পরবর্তী প্রজন্মের ইউএভি-লঞ্চড প্রিসিশন গাইডেড মিসাইল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর আগে ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে হালকা ধরনের মেশিনগান, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও কার্বাইন তৈরির একটি কারখানা চালু করেছিল আদানি গোষ্ঠী। এবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ করল এই সংস্থা।

তবে আদানি গোষ্ঠীর তৈরি ‘দৃষ্টি-১০ স্টারলাইনার’ নামের নজরদারি ড্রোন নিয়ে বিতর্ক এখনও পুরোপুরি থামেনি। ২০২৪ সালে ভারতীয় নৌসেনার জন্য ওই ড্রোন কেনা নিয়ে বিরোধীরা নানা অভিযোগ তুলেছিল। বলা হয়, ড্রোন তৈরির পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বরাত দেওয়া হয়েছে। পরে ইজরায়েলের এলবিট সিস্টেমস্-এর সহযোগিতায় তৈরি একটি ‘দৃষ্টি-১০ স্টারলাইনার’ গুজরাতের পোরবন্দরে পরীক্ষার সময় ভেঙে পড়ায় সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়। তবে আদানি গোষ্ঠীর দাবি, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা যেমন বাড়িয়ে তুলবে, পাশাপাশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।