ফল প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগে ধর্মনগর কলেজে এবিভিপির বিক্ষোভ, অধ্যাপকদের ঘরে আটকে তালা

নিজস্ব চিত্র

পরীক্ষার ফল প্রকাশে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ত্রিপুরার ধর্মনগর কলেজে তীব্র বিক্ষোভ দেখাল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কলেজ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের একটি ঘরে আটকে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন বলে অভিযোগ।

এবিভিপির অভিযোগ, সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফলে বহু পড়ুয়ার ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ভাবে ‘ব্যাক’ দেখানো হয়েছে। এমনকি পরীক্ষা দেওয়ার পরেও অনেকের নামের পাশে ‘এবি’ বা অনুপস্থিত উল্লেখ করা হয়েছে। এর জেরে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি ছাত্র সংগঠনের।

আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির ধর্মনগর নগর শাখার জেলা সংযোজক অনিকেত দেব-সহ সংগঠনের একাধিক নেতা। কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্রছাত্রীরা স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘পরীক্ষা দিয়েও এবি কেন’, ‘ব্যাক ক্লিয়ার করার পরেও আবার ব্যাক কেন’, ‘পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা বন্ধ করো’।


পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কলেজের প্রিন্সিপাল, অধ্যাপক এবং অধ্যাপিকাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় কলেজে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।

এবিভিপির দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফল প্রকাশে গাফিলতি, নম্বর বিভ্রান্তি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থার কারণে বহু পড়ুয়ার ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠন।

প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শ্যামল দাসের কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

বিকেলের দিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধর্মনগর থানার পুলিশ এবং কলেজের অধ্যক্ষ অভিজিৎ সরকার হস্তক্ষেপ করেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আটকে থাকা অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের মুক্ত করা হয়।

এবিভিপির তরফে প্রিন্সিপালের হাতে একটি স্মারকলিপিও তুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আগরতলায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।