পাঞ্জাবে বিরাট জয় আপের

দিল্লিতে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবির ধাক্কা কাটিয়ে পাঞ্জাবে ঘুরে দাঁড়াল আম আদমি পার্টি (আপ)। রাজ্যের পুরসভা নির্বাচনে বিপুল সাফল্য অর্জন করে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ দিল শাসকদল। শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গিয়েছে, মোট ১৯৭৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে একাই ৯৫৭টি আসনে জয় পেয়েছে আপ। শতাংশের হিসাবে প্রায় ৪৮ শতাংশ ওয়ার্ডে জয়লাভ করেছে দলটি। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফলাফলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস। তারা মোট ৩৯৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে নির্দল প্রার্থীরা ২৫১টি আসনে জিতে চমক দেখিয়েছেন। শিরোমণি আকালি দল ১৯১টি আসন দখল করে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক ফল করেছে বিজেপি। দলটি মাত্র ১৬৭টি আসনে জয়ী হয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। বহু প্রচার ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি সত্ত্বেও বিজেপি প্রত্যাশিত ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) মাত্র ৭টি আসনে জয় পেয়ে কার্যত প্রান্তিক শক্তি হিসেবেই থেকে গেল।

পুরসভা নির্বাচনে এই বড় জয়কে আম আদমি পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষত দিল্লিতে ক্ষমতা হারানোর পর বিরোধীরা যখন আপের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল, তখন পঞ্জাবের এই ফল দলীয় কর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করবে বলেই মত বিশ্লেষকদের।


ফল প্রকাশের পর দলের জাতীয় কনভেনার তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল জনগণকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে নাম না করে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘ইডি পার্টি ধুয়ে-মুছে ফাঁস হয়ে গিয়েছে। যারা এতদিন ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের দোকান ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে, তাদের জবাব দিয়েছে সাধারণ মানুষ।’ কেজরীওয়ালের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কও শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পঞ্জাবের জন্য এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী ২০২৭ সালেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একদিকে আম আদমি পার্টি নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া, অন্যদিকে বিজেপি, কংগ্রেস এবং আকালি দলও ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে সংগঠন শক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে পুরসভা নির্বাচনের এই ফলাফলকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের সেমিফাইনাল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর ২০২৭-এর দিকে, যেখানে পঞ্জাবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।