এআই দিয়ে আধার হ্যাক, ডিপফেক ব্যবহার করে ওটিপি ছাড়াই ব্যাঙ্ক ঋণ প্রতারণা

প্রতীকী চিত্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তিগত উন্নতির হাতিয়ার নয়, সেটিই হয়ে উঠছে সাইবার অপরাধীদের নতুন অস্ত্র। আমেদাবাদে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। এআই ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর আধার ও ব্যাঙ্কিং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে—তাও কোনো ওটিপি ছাড়াই।

এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তিনি লক্ষ্য করেন, তাঁর মোবাইলে ব্যাঙ্কের ওটিপি আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সন্দেহ বাড়তেই তিনি সাইবার ক্রাইম পুলিশের দ্বারস্থ হন। তদন্তে জানা যায়, তাঁর আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর অদলবদল করে নিয়েছে এক প্রতারক চক্র। ফলে সমস্ত ওটিপি চলে যাচ্ছে অপরাধীদের হাতে।

এরপরই সামনে আসে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। অভিযুক্তরা গুগলের মতো এআই টুল ব্যবহার করে তৈরি করেছিল ডিপফেক ভিডিও, যার মাধ্যমে তারা আধার কার্ডের বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়াকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়। এই কৃত্রিম পরিচয়ের সাহায্যেই তারা বিভিন্ন ব্যাঙ্কে ই-কেওয়াইসির কাজ করে এবং ভুক্তভোগীর নামে একটি নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলে।


শুধু তাই নয়, সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই ২৫ হাজার টাকার একটি লোনও অনুমোদন করিয়ে নেয় তারা। পাশাপাশি তারা ‘ডিজিলকার’ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টাও করে, যাতে ব্যক্তিগত নথিপত্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

পুলিশের তদন্তে ধরা পড়ে এই চক্রের চার সদস্য—কানভাই পারমার, আশিস ভানন্দ, মহম্মদ কাইফ প্যাটেল এবং দীপ গুপ্তা। এদের মধ্যে একজন একটি কমন সার্ভিস সেন্টারে কাজ করত, ফলে আধার ও সরকারি ব্যবস্থার নাগাল পাওয়া তার জন্য সহজ ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সাইবার অপরাধকে আরও উন্নত ও বিপজ্জনক করে তুলছে। ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে বায়োমেট্রিক নিরাপত্তাকেও ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কাছে বড় সতর্কবার্তা।

আমেদাবাদ পুলিশ পুরো চক্রটির নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি তদন্ত চলছে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি আরও কোথাও ছড়িয়েছে কি না।