এক নাবালিকাকে অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ১৯ বছর বয়সী নগেন্দ্রকুমার ভারতীয়কে। পুলিশের হেফাজতে আত্মঘাতী হয়েছেন অভিযুক্ত। এই ঘটনার পরই মহারাষ্ট্রে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার মহারাষ্ট্র পুলিশ জানিয়েছে, নগেন্দ্রকুমারকে সম্প্রতি প্রয়াগরাজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনের পাশাপাশি অপহরণের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, শীতের রাত হওয়ায় নগেন্দ্রকুমারকে একটি বিছানার চাদর দেওয়া হয়েছিল। সেই চাদর পেঁচিয়ে তিনি নিজের শৌচাগার থেকে নেওয়া একটি নোংরা ফেলার বাক্সের উপর দাঁড়িয়ে গলায় ফাঁস দেন।
জানা গিয়েছে, নগেন্দ্রকুমার কলেজপড়ুয়া ছিল। বিএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রটির সঙ্গে নির্যাতিতার পরিচয় হয় ইনস্টাগ্রামে। অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকাকে ভুলিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান নগেন্দ্রকুমার। এরপর তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। গত বছর ডিসেম্বর থেকে নাবালিকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মেয়েটির পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর গত সপ্তাহে দুজনের খোঁজ পায় পুলিশে। মেয়েটিকে আপাতত হোমে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিভাবে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে তিনি নোংরা ফেলার বাক্স নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কীভাবে চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করলেন তা তদন্ত করে দেখছে মহারাষ্ট্রের সিআইডি। ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ ও স্টেশন ডায়েরি সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ছেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা। ছেলের দেহ দেখতে গিয়ে থানাতেই জ্ঞান হারান ছেলেটির মা। তাঁদের অভিযোগ করেছেন, পুলিশের অবহেলা ও অত্যাচারই ছেলের মৃত্যুর কারণ।