ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক যুগের অবসান। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় বুকে সংক্রমণজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এরপর ১২ এপ্রিল, রবিবার প্রয়াত হন সুর সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। সোমবার মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে তাঁর শেষকৃত্য। সুরের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তিতে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।
সকাল থেকেই তাঁর লোয়ার পারেলের বাসভবনে ভিড় জমাতে শুরু করেন পরিবার, ঘনিষ্ঠজন ও অসংখ্য অনুরাগী। সকলের চোখে জল, আর মুখে একটাই কথা—’আশা তাই অমর রহে।’ এদিন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সম্মানও জানানো হয়েছে। এরপর বিকেল চারটে নাগাদ কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে শুরু হয় আশার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। তাঁর পছন্দের সাদা ও হলুদ ফুলে সাজানো শববাহী গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে শিবাজি পার্কে। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ তাঁদের প্রিয় শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। তারপরে স্বর্গীয় ভাগোজী বালুজী কীর হিন্দু শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর মরদেহ।
সোমবার সকাল থেকেই আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য নিয়ে তৎপর ছিল মুম্বাইয়ের পুলিশ প্রশাসন। মুম্বাই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষযাত্রার জন্য লোয়ার পারেল থেকে দাদার পর্যন্ত ১০০০ পুলিশকর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছিল। রাস্তার ট্রাফিক ও যাতায়াত ব্যবস্থা যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সেই জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘিরে এই সমাবেশে ছিল না কোনও উৎসবের মেজাজ, বরং শোকের কালো ছায়ায় ঢেকে গিয়েছিল গোটা এলাকা। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা যেমন– সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান, সঙ্গীত পরিচালক অনু মালিক, গায়ক হরিহরণ, শচীন তেন্ডুলকর, জাভেদ আলি, অভিনেত্রী তাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন মুকেশ,আমির খান, ভিকি কৌশল—সহ বহু তারকা। উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ ও উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে।
বিকেল পৌনে ছ’টা নাগাদ শেষকৃত্যে মুখাগ্নি করেন তাঁর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে। ‘আশা তাই অমর রহে’ ধ্বনির মধ্যেই চিরবিদায় জানানো হয় এই মহান শিল্পীকে। গোটা পরিবেশ তখন শোকভারাক্রান্ত, আবেগে ভাসছে অনুরাগীদের হৃদয়।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে হাজার হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আশা ভোঁসলে। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে প্রেম, বেদনা, আনন্দ থেকে শুরু করে জীবনের নানা রং। ভারতীয় সঙ্গীতকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর প্রয়াণে শুধু একটি কণ্ঠই থেমে গেল না, নিভে গেল এক যুগের সুর। তবে তাঁর গান, তাঁর সৃষ্টি—চিরকাল বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।