পুলিশের গুলিতে মৃত্যু নাবালিকা খুনে অভিযুক্তর, ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে প্রশ্ন

Gujarat Encounter Representative Image

গুজরাতের আনন্দ জেলায় ৪ বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এক যুবককে। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্তর। সোমবার ভোরে বোরসাদ এলাকার কাছে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় অভিযুক্ত সুরেশ পারমার ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা করে। আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনায় ২ পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে কাজের সন্ধানে শিশুটির বাবা-মা ভালসাদ রেলস্টেশনের কাছে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন। স্থায়ী কোনও আশ্রয় না থাকায় রেলস্টেশন চত্বরেই দিন কাটছিল পরিবারটির। রবিবার সকালে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় ৪ বছরের শিশুটি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। পরে স্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির দেহ।

ঘটনার তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সুরেশ পারমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ, শিশুটিকে অপহরণের পর খুন করা হয়েছে। তার উপর যৌন নির্যাতন হয়েছিল কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত নয়।


গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে আনন্দ জেলা পুলিশের অপরাধদমন শাখার হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ভোরে বোরসাদ থেকে আনন্দে নিয়ে যাওয়ার সময় মাঝপথে অসুস্থতার কথা জানায় সুরেশ। পুলিশ গাড়ি থামিয়ে তাকে নামায়। অভিযোগ, সেই সময়ই ছুরি বের করে দুই পুলিশকর্মীর উপর হামলা চালায় সে।

পুলিশের দাবি, কর্তব্যরত আধিকারিকরা তাকে অস্ত্র ফেলে দেওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করেন। কিন্তু তাতে সাড়া না দেওয়ায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুরেশকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে পুলিশের এই ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে তদন্ত শুরু হবে কি না তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের হেফাজতে মৃত্যু হওয়ায় ঘটনার প্রক্রিয়াগত তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।