আসামে ১৫ বছরের কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার, ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ

Photo: Statesman

বাংলায় বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের প্রতিচ্ছবি এবার আসামে। বন্যা-বিধ্বস্ত আসামে নৃশংস ঘটনা। হাইলাকান্দি জেলার কাটলিছড়া থানার অন্তর্গত আলোইছড়া এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে ১৫ বছরের এক কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘঙটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়। অভিযোগ, নির্যাতনের সময় তার যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভারী কিছু দিয়ে মুখ ও মাথা এমনভাবে থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল যে, পরিবারের সদস্যরাও প্রথমে তাকে চিনতে পারেননি।

পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। সেখানে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার এক তুতো ভাইয়ের বচসা হয়। এরপর রাতে সে একা বাড়িতে ফিরে আসে। রাত প্রায় ১১টা নাগাদ পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে ফিরে কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। কিশোরীর মুখ এতটাই বিকৃত ছিল যে, প্রথমে তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে, দেহে নৃশংস নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কিশোরীর যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢোকানো হয়েছিল। মুখ ও মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়। তবে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা ময়নাতদন্ত ও মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী মামলায় প্রয়োজনীয় ধারা যুক্ত করা হবে।


হাইলাকান্দির সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ অমিতাভ সিনহা বলেন, ‘পরিবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছে। কিন্তু আমরা কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত কি না,  নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেন্সিক নমুনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানও সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দীর্ঘক্ষণ আন্দোলন চলতে থাকে।

অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। পুলিশের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। মাত্র ১৫ বছরের এক কিশোরীর এমন নৃশংস পরিণতিতে শোক ও ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা। ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে নিহতের পরিবারের সদস্যরা।