মাওবাদীমুক্ত ঘোষণার পরেও ছত্তিসগড়ে মিলল ৭১১টি গ্রেনেড শেল

Image: IANS

ছত্তিসগড়কে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করার ৭ মাসের মাথায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হল বিজাপুরের কারেগুট্টা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশি চালিয়ে ৭১১টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের শেল উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের সন্দেহ, হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই ওই বিস্ফোরক মজুত করে রেখেছিল মাওবাদীরা। বিস্ফোরকের উপস্থিতির আশঙ্কায় আপাতত কারেগুট্টা পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

এক পুলিশ আধিকারিক জানান, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজাপুর জেলা পুলিশ, সিআরপিএফের ১৯৬তম ব্যাটালিয়ন এবং সিআরপিএফের বিশেষ বাহিনী কোবরার ২০৪তম ব্যাটালিয়ন যৌথ তল্লাশি অভিযান চালায়। উসুর থানার অন্তর্গত তাদাপল্লা গ্রামের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর শিবিরের আশপাশের জঙ্গলে এই অভিযান চলে। সেখানেই মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা ৭১১টি গ্রেনেড লঞ্চারের শেলের হদিস মেলে বৃহস্পতিবার। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি নির্দিষ্ট নিরাপত্তাবিধি মেনে সুরক্ষিত করা হয়েছে। তাদাপল্লা শিবির থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে কারেগুট্টা পাহাড়।

পুলিশের আশঙ্কা, ওই এলাকায় এখনও আইইডি-সহ অন্য বিস্ফোরক থাকতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে পাহাড় ও সংলগ্ন জঙ্গল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় মাইন নিষ্ক্রিয় করার অভিযানও চালানো হবে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক।ছত্তিসগড় ও তেলেঙ্গানার সীমান্তে অবস্থিত কারেগুট্টা পাহাড় একসময় মাওবাদীদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এই পাহাড়ি জঙ্গলে আশ্রয় নিতেন।


গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে ওই এলাকায় টানা ২১ দিন অভিযান চালিয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সেই অভিযানে অন্তত ৩১ জন মাওবাদী নিহত হন। পরে গত বছরের নভেম্বরে সেখানে নতুন শিবির তৈরি করে নিরাপত্তা বাহিনী। চলতি বছরের ৩১ মার্চ ছত্তিসগড়কে সশস্ত্র মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরেও ওই পাহাড়ে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।