পশ্চিম এশিয়ার ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা পরিস্থিতির মধ্যে ইরান থেকে উদ্ধার হওয়া প্রথম দফার ৭০ জন ভারতীয় ছাত্র রবিবার নিরাপদে দিল্লিতে পৌঁছলেন। জম্মু ও কাশ্মীরের ছাত্র সংঘ জানিয়েছে, আর্মেনিয়া হয়ে দীর্ঘ যাত্রাপথ অতিক্রম করে তাঁরা ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
জম্মু ও কাশ্মীর ছাত্র সংঘের জাতীয় সমন্বয়ক নাসির খুয়েহামি জানান, প্রথম দফায় ৭০ জনেরও বেশি ভারতীয় ছাত্র দেশে ফিরেছেন। তাঁদের অধিকাংশই জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা। পাশাপাশি কয়েকজন তীর্থযাত্রীও এই দলে ছিলেন। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ইরানে আটকে ছিলেন। রবিবার সকালে একটি বাণিজ্যিক উড়ানে তাঁরা দিল্লিতে পৌঁছন।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সমন্বয়ে এই উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্ররা প্রথমে ইরানের বিভিন্ন শহর থেকে বাসে করে আর্মেনিয়ায় পৌঁছন। সেখান থেকে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানের জভার্টনটস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইগামী উড়ানে ওঠেন। পরে দুবাই থেকে আরেকটি সংযোগকারী উড়ানে চেপে রবিবার সকাল প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন তাঁরা।
দেশে ফেরা ছাত্রদের অধিকাংশই ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। এর মধ্যে উর্মিয়া চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, তেহরান চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা রয়েছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তাঁদের অনেককেই আগে তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
এই উদ্ধার অভিযান সম্ভব হয়েছে বিদেশ মন্ত্রক, তেহরান ও ইয়েরেভানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে। কূটনৈতিক তৎপরতা এবং দূতাবাসের সহায়তায় বাণিজ্যিক উড়ানেই প্রথম দফার এই প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীর ছাত্র সংঘ বিদেশ মন্ত্রক এবং তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সংঘের মতে, এই পদক্ষেপে কাশ্মীরের বহু পরিবার স্বস্তি পেয়েছে, কারণ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা গভীর উদ্বেগে ছিলেন।
তবে এখনও ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু ভারতীয় ছাত্র আটকে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংঘ। তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান চালানোর দাবি জানানো হয়েছে। ইউক্রেন সঙ্কটের সময় যেমন বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছিল, তেমন উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর ছাত্রদের জম্মু ও কাশ্মীরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্য প্রশাসনের তরফে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযুক্ত বাসের ব্যবস্থা করা হয়। বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্গমন দ্বারের বাম দিকের পার্কিং এলাকায় এই বাসগুলি রাখা হয়েছিল।
নাসির খুয়েহামি জানান, দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রার পর ছাত্রদের স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়। টানা কয়েক দিন ধরে সড়ক ও আকাশপথে ভ্রমণের কারণে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
ফলে কেউ কেউ ওই বাসে চেপে জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দেন। আবার অনেকেই দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি এড়াতে সরাসরি শ্রীনগরের উড়ান বুক করে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।