সাত বছর পর ভারতে এলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার এক দিনের সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন তিনি। ব্রিকস সন্মেলনে যোগ দিতেই তাঁর এই ভারত সফর। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে শি জিনপিংয়ের। সেখানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রয়েছেন চিনের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। সেই দলে সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও যোগাযোগের পর এই সফরকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চিনের প্রেসিডেন্টের সফরকে ঘিরে দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শি জিনপিং যে হোটেলে রয়েছেন, সেই এলাকাকে নো-ফ্লাই জোনের আওতায় রাখা হয়েছে। হোটেলে মোতায়েন থাকবে অ্যান্টি-টেরর এবং বোমা শনাক্তকারী বিশেষ দল। এর পাশাপাশি গোটা হোটেল চত্বরজুড়ে চলবে ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি। শি জিনপিং নয়াদিল্লির তাজ প্যালেসে থাকবেন। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে হোটেলের সমস্ত ঘর ইতিমধ্যেই বুক হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হোটেলের আশেপাশের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও অন্যান্য পরিকাঠামোও পরীক্ষা করা হবে।
শি জিনপিংয়ের নিরাপত্তার জন্য তাঁর ব্যবহারের বিশেষ গাড়ি প্রায় ১০ দিন আগেই ভারতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একটি কার্গো বিমানে চিন থেকে তাঁর হংকি স্টেট লিমুজিন, একটি অতিরিক্ত গাড়ি ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভারতে আনা হয়। শহরজুড়ে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী ও ২০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। যানবাহনেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ব্রিকসে যোগ দিতে মরিয়া পাকিস্তান, সম্মতি নেই ভারতের
ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শান্তি পথ পর্যন্ত শি জিনপিংয়ের যাতায়াতের রুটে ৭০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৫টি কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে। তুঘলক রোডে থানাতেও একটি বিশেষ সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৫০০টি ক্যামেরার ফুটেজ নজরদারি করা যাবে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার জন্য আরও একাধিক জায়গায় অতিরিক্ত ক্যামেরা বসানো হয়েছে।