মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় নৌসেনার ৭ প্রাক্তন সেনা কর্তার দেশের মাটিতে পা মোদির জন্যই মুক্তি, প্রতিক্রিয়া মুক্তিপ্রাপ্তদের  

দিল্লি, ১২ ফেব্রুয়ারি –  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় নৌসেনার আট প্রাক্তন আধিকারিককে মুক্তি দিয়েছে কাতার। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুসারে ইতিমধ্যেই দেশে ফিরেছেন ওই ৭ নৌসেনা কর্তা। কাতারে কয়েক মাস বন্দি থাকার পর দেশে পা রেখেই মুক্তি পাওয়া নৌসেনা কর্তাদের মুখে শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা। কাতারে আটক থাকা নৌসেনা কর্তারা মুক্তির জন্য মোদিকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন। তাঁর পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা করা না হলে তাঁদের মুক্তি সম্ভব হতো না বলে মনে করছেন প্রাক্তন নৌসেনার কর্তারা।  
কাতারে বন্দি আট জন নৌ সৈনিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল কাতারের আদালত। দিল্লি এ বিষয়ে ক্রমাগত হস্তক্ষেপ করা এবং আইনি সহায়তা দেওয়ার পর গত ডিসেম্বরে ভারতীয় নৌ সৈনিকদের মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে কাতারের আদালত। সাজা কমিয়ে তাঁদের কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভারত সরকারের তরফে কাতারের আদালতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সাজা পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়। তার পরেই ওই আধিকারিকদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয় কাতার। সোমবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ওই আট জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাত জন দেশে ফিরে এসেছেন। কাতারের এই সিদ্ধান্ত ভারতের পক্ষে কূটনৈতিক জয় হিসাবে দেখা হচ্ছে। মোদির হস্তক্ষেপেই কাতার সরকার সিদ্ধান্ত বদল করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
 
সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ‘‘কাতারের সংস্থায় কর্মরত আট প্রাক্তন নৌ সেনা আধিকারিককে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার। আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। ওঁদের মধ্যে সাত জন ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন।’’  দেশের মাটিতে পা রেখেই আবেগের বসে তাঁরা জোর গলায় বলে ওঠেন ” ভারত মাতা কি জয় ” . প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রসংশা করেন প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিকরা। সোমবার ভোরে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছে মুক্তিপ্রাপ্ত ৭ জন প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিক বিমানবন্দরেই “ভারত মাতা কি জয়” স্লোগান দেন। দেশে ফিরে আসতে পারায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা। 
 
২০২২ সালের আগস্ট মাসে আট প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিককে আটক করেছিল কাতারের গোয়েন্দা সংস্থা। তাঁরা কাতারের বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ইজরায়েলে চরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছিল। বিচারে আট প্রাক্তন সেনাকর্মী ক্যাপ্টেন নভতেজ সিং গিল, ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র কুমার বর্মা, ক্যাপ্টেন সৌরভ বশিষ্ঠ, কমান্ডার অমিত নাগপাল, কমান্ডার পূর্ণেন্দু তিওয়ারি, কমান্ডার সুগুণাকর পাকালা, কমান্ডার সঞ্জীব গুপ্তা এবং নাবিক রাজেশকে মৃত্যুদণ্ড দেয় কাতার আদালত। যার পর তাঁদের উদ্ধারে সক্রিয় হয় ভারত। শেষ পর্যন্ত বিদেশ মন্ত্রক তথা প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে মুক্ত হয়ে ভারতে ফিরলেন ওই সেনা আধিকারিকরা। ১৮ মাস পর দেশে ফিরতে পারায় মোদিকে কৃতজ্ঞতা জানান। প্রাক্তন সেনাকর্মীদের এই মোদি বন্দনা লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিকে বাড়তি উৎসাহ জোগাবে তা বলার  অপেক্ষা রাখে না ।