শিবসেনায় বড় ভাঙন, উদ্ধব শিবির ছেড়ে শিন্ডের দলে ৬ সাংসদ

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা খেল উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা ইউবিটি। দীর্ঘ জল্পনার পর সোমবার একসঙ্গে লোকসভার ছজন সাংসদ দল ছেড়ে যোগ দিলেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায়। এই ঘটনার পরে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

দলবদল করা সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন ধারাশিবের ওমরাজে নিম্বালকর, মুম্বাই উত্তর-পূর্বের সঞ্জয় দিনা পাতিল, পারভানির সঞ্জয় যাদব, যবতমল ওয়াশিমের সঞ্জয় দেশমুখ, হিঙ্গোলির নাগেশ পাতিল অষ্টিকার এবং শিরডির ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে। এতদিন তাঁরা সকলেই উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত ছিলেন।

মুম্বাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের দলে স্বাগত জানিয়ে একনাথ শিন্ডে বলেন, ‘এই ছজন বাঘ এখন আমাদের পরিবারের অংশ। প্রকৃত শিবসেনার শক্তি আরও বৃদ্ধি পেল।’ সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০২২ সালে যে বিদ্রোহের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছিল, তার দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হল এই যোগদানের মাধ্যমে।


গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উদ্ধব শিবিরে ভাঙন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। জল্পনা আরও জোরদার হয় যখন দিল্লিতে ডাকা দলের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় বৈঠকে নজন সাংসদের মধ্যে মাত্র তিনজন উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একসঙ্গে ছ’জন সাংসদের দলবদল দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। কারণ লোকসভায় উদ্ধব শিবিরের মোট ন’জন সাংসদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য শিন্ডে শিবিরে যাওয়ায় এই ভাঙনে আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পথ সহজ হতে পারে। অর্থাৎ দলবদল করা সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করা কঠিন হতে পারে।

এদিকে এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ উদ্ধব শিবির। দলের নেতারা বিজেপি ও শিন্ডে গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ ও প্রলোভনের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও দলবদল করা সাংসদরা সেই অভিযোগ উড়িয়ে দাবি করেছেন, তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং শিবসেনার আদর্শের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।