তুষারপাতের পরই ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম

প্রতীকী চিত্র

গত কয়েক দিনের ভারী তুষারপাতের পর বৃহস্পতিবার সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬, যার প্রভাব পড়ে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি-সহ একাধিক এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ সিকিমের গ্যিয়ালশিং এলাকায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই অগভীর কম্পনের ফলে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

ভূমিকম্পের প্রভাব শুধু সিকিমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি সহ একাধিক এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। আচমকা কম্পনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ও কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসেন। কয়েক সেকেন্ডের এই কম্পন মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘হঠাৎ করেই মাটি কেঁপে ওঠে। প্রথমে বুঝতে পারিনি কী হচ্ছে। পরে বুঝতে পারি, ভূমিকম্প হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি।’


এখনও পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সিকিমে ধারাবাহিকভাবে একাধিকবার ভূমিকম্প হয়েছিল। ফলে নতুন করে কম্পন অনুভূত হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে এই ধরনের ভূমিকম্প অস্বাভাবিক নয়, তবে সতর্ক থাকা জরুরি।