রায়পুরে পিগ আয়রন কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ছত্তিসগড়ের রাজধানী রায়পুরের বেন্দ্রি এলাকায় একটি পিগ আয়রন কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উরলা থানা এলাকার একটি শিল্প কারখানায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাকে গিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রের খবর, কারখানার ভিতরে কাজ চলাকালীন আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে যেসব শ্রমিকরা কাজ করছিলেন তাঁরা গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই দুজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। কয়েকজন আহত শ্রমিক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল, প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি কারখানার ভিতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখেন উদ্ধারকারী দল। নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্ফোরণস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম অরুণ পাণ্ডে, কোমল সিং এবং লাল সিং। তাঁদের মধ্যে অরুণ ছত্তিসগড়ের বাসিন্দা। লাল ও কোমল সিং মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কারখানায় কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অতিরিক্ত চাপের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এই দুর্ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলে কারখানাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনগুলিও ঘটনার নিরপেক্ষে তদন্ত এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানানো যায়নি। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এর আগেও জানুয়ারি মাসে ছত্তিসগড়ে একটি স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। গলে যাওয়া লোহা ছিটকে পড়ে শ্রমিকদের উপর। ঘটনাস্থলেই ঝলসে মৃত্যু হয় শ্রমিকদের।