গাজিয়াবাদে ৩ কিশোরীর মৃত্যু, উদ্ধার সুইসাইড নোট

প্রতীকী চিত্র

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে একই পরিবারের তিন কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু।  পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও, এর পেছনে গভীর ও জটিল সামাজিক এবং পারিবারিক সমস্যা জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অনলাইন গেমের আসক্তির প্রভাব অন্যতম প্রধান কারণ কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মৃত কিশোরীদের বাবা চেতন কুমার পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কোনও সন্তান না হওয়ায় পরে স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করেন তিনি। দ্বিতীয় স্ত্রীর ৩ সন্তান হওয়ার পর প্রথম স্ত্রীও ২ সন্তানের জন্ম দেন। ২ স্ত্রী ও ৫ সন্তান—সবাই গাজিয়াবাদের সাহিবাবাদ এলাকার ভারত সিটি আবাসনের একটি বহুতল ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকতেন। তিন কিশোরীর মধ্যে একজন প্রথম স্ত্রীর মেয়ে এবং বাকি ২ জন দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। বয়স যথাক্রমে ১২, ১৪ ও ১৬ বছর।

পুলিশ সূত্রে খবর, গভীর রাতে ৩ বোন একসঙ্গে বহুতলের ওপর থেকে নীচে পড়ে যায়। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। তদন্তকারীরা কিশোরীদের ঘর থেকে একটি ছোট ডায়েরি উদ্ধার করেছেন। সেখানে আট পাতার একটি নোট পাওয়া গেছে, যার শিরোনাম ছিল ‘জীবনের সত্য কাহিনি’। নোটে বাবার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে—’সরি পাপা’—এমন কথাও সেখানে লেখা ছিল। ডায়েরিতে আরও উল্লেখ ছিল, তারা খুব মানসিক চাপে রয়েছে।


ঘরের দেওয়ালে ‘আমি খুব একা’ লেখাও দেখতে পাওয়া যায়। সূত্রের খবর, ৩ বোন প্রায় সবসময়ই একসঙ্গে কাজ করত। খাওয়া, পড়া, এমনকি একইসঙ্গে ঘুমোত। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ৩  বোন দীর্ঘদিন ধরে একটি টাস্ক-ভিত্তিক অনলাইন গেম ও কোরিয়ান ডিজিটাল কনটেন্টে আসক্ত ছিল। কোভিডের সময় থেকেই তাদের এই আসক্তি বাড়ে। পরিবারের তরফে তাদের মোবাইলের ব্যবহার কমানোর জন্য বলা হয়েছিল, যা তাদের মানসিকভাবে আরও অস্থির করে তুলেছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট গেমের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি যোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। ফরেনসিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা তদন্তে যুক্ত হয়েছেন।জানা গিয়েছে, গত প্রায় ২ বছর ধরে তিন কিশোরীর স্কুলে যাওয়া অনিয়মিত হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ সময়ই তারা ঘরেই থাকত এবং অনলাইনে সময় কাটাত। এতে তাদের সামাজিক যোগাযোগও কমে গিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ৩ বোনের মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর বয়সে মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিবেশ, ডিজিটালে আসক্তি এবং নজরদারির অভাব—সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না।

কিশোর-কিশোরীদের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, একাকীত্ব, অতিরিক্ত অনলাইন নির্ভরতা বা মানসিক অস্থিরতা দেখা গেলে পরিবারের সতর্ক হওয়া এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি।