অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২২ সেনা কর্মী ও ৩ জন সাধারণ নাগরিক

অভূতপূর্ব সাহস ও দ্রুততায় বুধবার ভোরে বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালাল ভারতীয় বায়ু সেনা। জম্মু ও কাশ্মীর ও পাঞ্জাব সীমান্তবর্তী মাধোপুর হেডওয়ার্কস এলাকায় আটকে পড়া ২২ জন সিআরপিএফ জওয়ান এবং তিনজন সাধারণ নাগরিককে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই উদ্ধার করল সেনার হেলিকপ্টার।

প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভোর ৬টা নাগাদ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও সেনা হেলিকপ্টার সঠিক সময়ে পৌঁছে আটকে পড়া সেনাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। যে ভবনে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, উদ্ধার অভিযানের অল্প সময় পরেই সেটি ভেঙে পড়ে। ফলে এই অভিযানের নিখুঁত পরিকল্পনা এবং সঠিক সময়ের সিদ্ধান্তে বেঁচে যায় বহু প্রাণ।

মুখপাত্র বলেন, ‘মানুষের জীবন রক্ষায় সেনার প্রতিশ্রুতি অটল। সংকটমুহূর্তে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।’ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনার এই অভিযান বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানান তিনি।


শুধু মাধোপুরেই নয়, গতকাল সন্ধ্যায় সেনা ও সিআরপিএফ জওয়ানরা একযোগে উদ্ধার করেন বন্যার জলে আটকে থাকা ১১ জন বিএসএফ ও ৯ জন সেনা সদস্যকে। পাশাপাশি, জলমগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে একশোরও বেশি সাধারণ মানুষকেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বন্যার জল ঢুকে পড়ায় সেখানে আটকে থাকা বহু ছাত্রছাত্রী ও কর্মীকেও উদ্ধার করেছে সেনা। সোয়াঞ্জনা এলাকার একটি স্কুলে আটকে পড়া ছাত্রছাত্রীদেরও দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এই দুঃসাহসিক অভিযান ফের প্রমাণ করল— দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভারতীয় সেনা সর্বদা প্রস্তুত। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে বিপদ থেকে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম তাঁরা।