নিরাপত্তায় আরও ২০ কোম্পানি সিআরপি, যন্তর মন্তরে অনড় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

Image: SNS

রাজধানীতে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে। আন্দোলনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও শামিল হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে কেন্দ্র। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সিআরপি মোতায়েন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতেই বিমানপথে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের দায়িত্বে থাকা ওই বাহিনীকে রাজধানীতে আনা হয়েছে। প্রতি কোম্পানিতে প্রায় ১০০ জন জওয়ান থাকেন। এর আগে আন্দোলন মোকাবিলায় ৩০ কোম্পানি সিআরপি ও র‍্যাফ মোতায়েন ছিল।

এ দিকে, হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজকর্মী তথা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অন্য দিকে, যন্তর মন্তর ছাড়তে নারাজ সিজেপি-র আন্দোলনকারীরা। বুধবার সকাল থেকেই সেখানে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। আন্দোলনকারীদের এক দফা দাবি— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্দোলনের প্রভাব পৌঁছে গিয়েছে বিদেশেও। ওয়াংচুকের সমর্থনে নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।

রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে কেন্দ্রের উপর। দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আটক অবস্থাতেই তিনি কেন্দ্রের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান। এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, আন্দোলনটি সরকারের কাছে যেন একেবারেই ‘আউট অফ সিলেবাস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে প্রশাসন যেমন নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করছে, তেমনই আন্দোলনকারীরাও পিছিয়ে আসার কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। ফলে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকেই এখন নজর দেশের।