লখলউ অগ্নিকাণ্ডে ১৮ জনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ভবনের মালিক

উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ আগুনে ১৮ জনের মৃত্য ঘটেছে। এই ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ভবনটিতে অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত গাফিলতি রয়েছে। ভবনের অনুমোদ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আলিগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ছয় জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।  ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১১০, ১২৫ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ।

ওই ভবনের তিন মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন রামকৃষ্ণ উপাধ্যায়, বীরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা এবং তুষাঙ্ক কৃষ্ণ জয়সওয়াল। ওই বিল্ডিংয়ের একটি স্টুডিওর পরিচালনায় থাকা সুরেশ কুমার সাহুকেও আটক করা হয়েছে।


এফআইআর অনুযায়ী, সেক্টর-ডি এলাকার পুরানিয়ে চৌরাহার কাছে অবস্থিত তিনতলা ভবনটিতে একাধিক ব্যবসা চলত। নিচের তলায় ছিল পোষ্য প্রাণীর দোকান ও ক্লিনিক। দ্বিতীয় তলায় ছিল ভিডিও গেমিং জোন এবং থ্রিডি অ্যানিমেশন সেন্টার। উপরের তলায় একটি আইটি নেটওয়ার্কিং অফিস ছিল।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ভবনে কোনও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। জরুরি নির্গমনপথ, বিকল্প বেরোনোর রাস্তা কিংবা ধোঁয়া নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও ছিল না। বিল্ডিংটির প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সরঞ্জামও যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

পুলিশের দাবি, রবিবার দুপুর প্রায় আড়াইটের সময় পোষ্য প্রাণীর দোকান ও ক্লিনিকে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যে গোটা ভবনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ ভিতরে আটকে পড়েন। দোকানের বহু প্রাণীর মৃত্যু হয়ে বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধোঁয়ায় বিল্ডিংটি ভরে যাওয়ায় এবং বের হওয়ার পথ না থাকায় প্রাণ বাঁচাতে অনেকে ছাদ ও উঁচু তলা থেকে ঝাঁপ দেন। এতে বহু মানুষ গুরুতর আহত হন। মৃতদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভবনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বিধি অমান্য করলে প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল, তা জেনেও যথাযত সতর্কতা নেননি। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং যোগী আদিত্যনাথ। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করা হয়েছে। পাশাপাশি আলিগড় সফর সংক্ষিপ্ত করে নখনউ ফিরে এসে আহতদের সঙ্গে করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।