আরও ১১৪টি রাফাল বিমান কিনতে চলেছে ভারত

ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বাড়াতে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, ভারত প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার চুক্তিতে আরও ১১৪টি দাঁসোর রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে ফ্রান্সের থেকে। এই বিষয়ে ভারত ইতিমধ্যেই ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ বা এলওআর চূড়ান্ত করেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ফ্রান্সের কাছে পাঠানো হতে পারে বলে খবর।

দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় বায়ুসেনায় যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রনের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল। সেই পরিস্থিতিতে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার এই পরিকল্পনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, মোট ১১৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রায় ৯০টি ভারতেই তৈরি হবে। ফরাসি বিমান নির্মাতা সংস্থা দাঁসো অ্যাভিয়েশন এবং একটি ভারতীয় সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই বিমানগুলি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি যুদ্ধবিমানগুলি সরাসরি প্রস্তুত অবস্থায় ভারতে আনা হবে।

রাফাল কেনার ক্ষেত্রে এলওআর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। সরকার থেকে সরকার পর্যায়ের প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে এই নথির মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে প্রয়োজনীয় যুদ্ধবিমানের সংখ্যা, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং সামরিক সক্ষমতার বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। কয়েক মাস আগেই প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ বা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। এরপরই এলওআর তৈরির কাজ শুরু হয়।


ফ্রান্সের তরফে যুদ্ধবিমানের দাম, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হলে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল’ বা আরএফপি জারি করবে। তারপর দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সবশেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির অনুমোদনের পর চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, চলতি বছরের শেষের মধ্যেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাফাল বর্তমানে ভারতের জন্য দ্রুততম সময়ে বায়ুসেনার শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম সেরা উপায়। এই যুদ্ধবিমান দ্রুত মোতায়েন করা যায় এবং একই সঙ্গে আকাশযুদ্ধ, স্থল আক্রমণ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর। ফলে ভারতের সামরিক কৌশলে রাফালের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

প্রতিরক্ষা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, স্ক্যাল্প- ইজি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হ্যামার প্রিসিশন গাইডেড বোমায় সজ্জিত রাফাল যুদ্ধবিমান অতীতে গভীর আঘাত হানার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এমনকি পাকিস্তানের চীনা প্রযুক্তির এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থাকেও এড়িয়ে সফল অভিযান চালানো হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক আধিকারিকদের একাংশের মতে, গত বছরের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ রাফাল ছিল অন্যতম প্রধান শক্তি। তাঁদের দাবি, মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান সম্পূর্ণ করে নির্ভুল হামলা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিল এই যুদ্ধবিমান। সেই অভিজ্ঞতার পরই ভারতীয় বায়ুসেনায় আরও রাফাল অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জল্পনা বেড়েছিল।