প্রবল ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে উত্তরপ্রদেশ। অযোধ্যা, বারাণসী, গাজিয়াবাদ-সহ অন্তত ৩০টি জেলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১০০ জনের। কোথাও ৬০ থেকে ৭০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া, আবার কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।হাওয়ার গতিবেদ এতটাই বেশি ছিল যে বরেলীতে ঝড়ে টিনের একটি ছাউনি-সহ এক ব্যক্তিকে ৪৫ ফুট উঁচুতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ১০০ মিটার দূরে নিয়ে গিয়ে ফেলে। তার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি। মনে করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হিসেবে উঠে এসেছে প্রয়াগরাজ, বারানসী, প্রতাপগড়, ভদোহী, ফতেহপুর, উন্নাও, কানপুর দেহাত, চন্দৌলি, সোনভদ্র ও বদায়ুঁ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী শুধু প্রয়াগরাজেই ১৭ থেকে ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছে প্রয়াগরাজ থেকেই। সেখানে হান্ডিয়া এলাকায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে ফুলপুরে ৩ জন, সোরাওয়ে ৩, মেজায় ২ এবং সদরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে । ভদোহীতে ১৫ থেকে ২০ জন, ফতেহপুরে ৯ থেকে ১১ জন এবং মির্জাপুর থেকে প্রায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও বদায়ুঁতে ৫, প্রতাপগড়ে ৪, চন্দৌলিতে ২ এবং কুশীনগরে ২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সোনভদ্রে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও গাছ পড়ে, ঘরবাড়ি ধসে এবং বজ্রপাতের কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়া এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়াই প্রধান প্রাণহানির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়। ঝড়ের মুখে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জনের বেশি। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
বরেলী-সহ একাধিক জায়গায় ঝড়ের দাপটে টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে মানুষ গুরুতরভাবে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। দেওরিয়া, বারাবাঁকী ও সীতাপুরে ২ হাজারের বেশি গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জেলা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও পরিকাঠামো পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধকালীন ততপরতায় কাজ চালানো হচ্ছে। দুর্যোগ ও বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবেই এই ঝড়বৃষ্টি। তবে সতর্ক করা হয়েছে যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্যের কিছু অংশে, বিশেষ করে বুন্দেলখণ্ড ও দক্ষিণাঞ্চলে তাপপ্রবাহ ফের ফিরে আসতে পারে।