সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ মিলল তেলেঙ্গানায়। রাজ্যের ভূমি দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে প্রশাসনিক মহলে। হায়দরাবাদের বাসিন্দা ওই আধিকারিক সুঙ্কারি নরহরি রাও ভূমি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা। দুর্নীতিদমন শাখা বা এসিবি-র অভিযানে যে বিপুল সম্পত্তির হদিস মিলেছে, তা দেখে কার্যত হতবাক তদন্তকারীরাও। তাঁর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে এসিবি।
মঙ্গলবার রাওয়ের বাড়ি, তাঁর আত্মীয়দের বাসভবন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যুক্ত মোট ৯টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। সেই অভিযানে তদন্তকারীরা যে তথ্য পেয়েছেন তা দেখে চোখ কার্যত কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। এসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, রঙ্গারেড্ডি জেলায় পাঁচটি প্লট, মহেশ্বরমে ১.২৪ একর কৃষিজমি পুপ্পালাগুডায় ২ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, নারসিংগিতে ২টি বড় ফ্ল্যাট, এবং রাজেন্দ্রনগরে আরও একটি ফ্ল্যাটের মালিক রাও। পাশাপাশি গাছিবোলির টিএনজিও কলোনিতে চারতলা একটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং ছত্রিনাকায় তিনতলা আরও একটি বাড়ির নথিও উদ্ধার হয়েছে।
স্থাবর সম্পত্তি ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১.৫৪ কোটি টাকা নগদ, ২.২৯ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ব্যালান্স, ৫.০৪ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত, প্রায় ১.৩ কেজি ওজনের সোনা এবং ৮ কেজি ওজনের রুপোর গয়না। রাওয়ের স্ত্রীর নামে থাকা ২টি ব্যাঙ্কের লকার এখনও খোলা হয়নি। ফলে সেটি মিলিয়ে সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এসিবির দাবি, এখনও পর্যন্ত যে পরিমাণ সম্পদের খোঁজ মিলেছে তার মূল্য ১০০ কোটিরও বেশি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রকৃত অঙ্ক আরও অনেক বেশি হতে পারে। বর্তমানে এই আধিকারিককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এবং তাঁর সম্পদের উৎস কি কি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা ফের সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।
এর আগেও এসিবি কর্তৃপক্ষ সড়ক ও ভবন বিভাগের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মোহন নায়েক জারুপলা, হায়দরাবাদ ওয়াটার বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার সাগ্গাম অনন্ত লক্ষ্মী কুমার এবং অতিরিক্ত এসপি এন ভুজঙ্গা রাওকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক বেশি আয়বহির্ভূত সম্পত্তি থাকার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছিল। এখন এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।