মধ্যপ্রদেশের খণ্ডওয়া জেলায় অল্পের জন্য বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গেল। নর্মদা নদীতে ওমকারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরের কাছে তীর্থযাত্রী বোঝাই একটি কাঠের নৌকা উল্টে গেলেও, সময়মতো উদ্ধারকাজ চালিয়ে সকলকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনল প্রশাসন। শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে ওমকার মঠ এবং নগর ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায়।
জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে আসা ১০ জন তীর্থযাত্রী নর্মদার তীরে ধর্মীয় পরিক্রমা করছিলেন। সেই সময় তাঁদের নৌকাটি আচমকাই একটি পাথরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। পুলিশ সুপার মনোজ কুমার রাই জানিয়েছেন, নৌকাটি হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরে ধাক্কা খায়। তবে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কারণ সকল যাত্রীই জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট পরেছিলেন। ঘটনার পর দ্রুত পৌঁছে যায় স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স এবং স্থানীয় ডুবুরিরা। তাঁরা দ্রুত সকলকে জল থেকে উদ্ধার করেন। কারও কোনও গুরুতর আঘাত লাগেনি বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত ওমকারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ দেশজুড়ে এক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। সারা বছরই এখানে বহু ভক্তের সমাগম হয়। বিশেষ করে পরিক্রমা করার জন্য নৌকাভ্রমণ অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এই অঞ্চলে নদীর নীচে লুকিয়ে থাকা পাথর, জলস্তরের ওঠানামা এবং হঠাৎ স্রোতের পরিবর্তনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। অতীতেও এই এলাকায় একাধিক নৌকাডুবি এবং ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার পর ফের একবার নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নৌকার ভারসাম্য, স্রোতের অবস্থা এবং চালকের ভূমিকা— সব কিছুই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এই ঘটনায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো গেলেও, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে আরও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে তীর্থযাত্রীদের তরফে।