আগামী ৬ মাসের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের ১ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। এমনটাই ঘোষণা করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে তাঁর সরকারের আমলে সরকারি চাকরি পাওয়া যুবকের সংখ্যা প্রায় ১০.৫ লক্ষে পৌঁছবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর সরকারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ বোর্ড ও কমিশনগুলি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকায় দ্রুত ফল প্রকাশ ও নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনার ফলেই যোগ্য প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এর পাশাপাশি ২০১৭ সালের আগের নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়েও তীব্র আক্রমণ করেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ে নিয়োগ বোর্ড ও কমিশনগুলিতে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। অনিয়মের অভিযোগও উঠত। উত্তরপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তৎকালীন এক চেয়ারম্যানের নিয়োগ প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তির যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের কঠোর মন্তব্যের কথাও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ বোর্ড ও কমিশনে বসানোর অভিযোগও তিনি করেন। তাঁর দাবি, এর ফলে নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কর্মসংস্থানের সন্ধানে উত্তরপ্রদেশের বহু যুবককে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও পূর্বতন সরকারগুলিকে নিশানা করেন আদিত্যনাথ। তাঁর দাবি, ২০১৭ সালের আগে রাজ্যে ঘন ঘন দাঙ্গা ও দীর্ঘস্থায়ী কারফিউয়ের পরিস্থিতি তৈকি হয়েছিল। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।
আরও পড়ুন: জুবিন গর্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে রক্তদান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান সরকার স্বচ্ছ নিয়োগ ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলেছে। আগামী দিনেও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।