এ যেন এক অন্যরকম সাসপেন্সের ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ। আজ তিনি সহ তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের সকল সদস্য দিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছেন। সেই সঙ্গে আগামীকালই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করবেন দেব, সায়নী ঘোষ,কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ একাধিক তৃণমূল সাংসদ। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পা রেখেছেন দেব, সায়নী সহ একাধিক তৃণমূল সাংসদেরা।
যদিও কয়েকদিন আগেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিজের মুখ ঢেকে বেরিয়ে এসেছিলেন সায়নী ঘোষ। সাংবাদিকদের সামনেও কোন উত্তর দেননি তিনি। আজ নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে সাসপেন্সের ইঙ্গিত দিলেন তিনি। এনডিএকে সমর্থন করা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সব জেনে যাবেন। যখন বলার সময় আসবে, সব বলে দেব। আপনাদের জবাব দেব না, শুধু নিজের লোকেদের কাছে বলব। আমার আওয়াজ সকলের কাছে সঠিক সময়ে পৌঁছবে।’ আর কিছু না বলে সরাসরি গাড়িতে উঠে চলে যান তিনি।
ইতিমধ্যেই জানবা গিয়েছে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ২০ জন লোকসভা সাংসদ বিক্ষুব্ধ হয়ে দলের থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। এর আগেই জানা গিয়েছিল মমতা ঘনিষ্ঠ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করেছেন । তাঁর সঙ্গে ছিলেন শতাব্দী রায়ও। যদিও আগেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। এক্স হ্যান্ডেলে মহুয়া মৈত্র জানিয়েছিলেন যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন তিনি অসুস্থ। কিন্তু তিনি দিল্লিতে রয়েছেন আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করেছেন।
প্রসঙ্গত ৪ মে নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক তণমূল নেতা দলবিরোধী সুর তুলতে শুরু করেছিলেন। তাতে যোগ দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার থেকে শুরু করে একাধিক নামজাদা ব্যক্তিত্ব। সকলেই আঙুল তুলেছিলেন তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আই প্যাকের দিকে। তাদের জন্য এই ফল হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতারা। প্রবল এই দলীয়. ঝড়ে কার্যত তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়তে শুরু করেছিল তৃণমূল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল তৃণমূল আদৌও বিরোধী দলের তকমা ধরে রাখতে পারবে কি না। কিন্তু সেখানেও যে বেশ বড় জটিলতা রয়েছে তা আজ দিল্লিতে বৈঠকের পরেই স্পষ্ট বোঝা যাবে। তবে দলের প্রতিপত্তি যে রীতিমত ধ্বংসপ্রাপ্ত তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বাংলার মানুষের কাছেই।