উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারে মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়েছে ভেঙে পড়া বিমানের ব্ল্যাকবক্স। বিমানের গতিবিধি সংক্রন্ত তথ্য এবং ককপিটের ভিতরের কথোপকথন রেকর্ড থাকে ব্ল্যাক বক্সে। তা খতিয়ে দেখলেই অজিতের বিমান ভেঙে পড়ার কারণ জানা যাবে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে ভেঙে পড়া লিয়ারজেট-৪৫ মডেলের বিমানটির ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। সেটির মধ্যে থাকা তথ্য বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলেই জানা যাবে, দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল ককপিটের ভিতরে।
বিমান দুর্ঘটনার পরে দুই পাইলটের মৃত্যু হলে, দুর্ঘটনার কারণ জানতে একমাত্র ভরসা হয় ব্ল্যাক বক্স। নামে ‘ব্ল্যাক’ থাকলেও, আসলে এর রং কমলা। এতে থাকে দুই ধরনের তথ্য। ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (ডিএফডিআর) এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর)।
ডিএফডিআর-এর মধ্যে বিমানের সমস্ত যন্ত্রের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে, কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যদি দুর্ঘটনা ঘটে, তা বোঝা যায় ডিএফডিআর–এর তথ্য থেকে। সিভিআর-এ থাকে ককপিটের ভিতরে সমস্ত কথোপকথন। তাই এই ধরনের দুর্ঘটনার পরে তদন্ত এগোতে ভরসা ব্ল্যাক বক্সই।
বুধবার বারামতিতে ফ্লাইট ল্যান্ডিংয়ের আগে কো–পাইলট শাম্ভবী পাঠককে বিমানবন্দরের ট্র্যাফিক অফিসার বলেছিলেন, ‘ক্লিয়ার টু ল্যান্ড’। সকাল ৮টা ৪৩-এ এই কমান্ড আসে। বিমান ভেঙে পড়ে ৮টা ৪৪-এ। এক মিনিটে কী হয়েছিল, এখন সেটাই প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেই এক মিনিটের জবাব দিতে পারে এই ব্ল্যাক বক্স।
বৃহস্পতিবার ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন বা ডিজিসিএ-এর আধিকারিকরা ও ফরেন্সিক টিম বারামতির ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছে। সকাল থেকেই চলেছে নমুনা সংগ্রহের কাজ।
বুধবার সকালে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে পুনের বারামতিতে। ৮টা ১১ নাগাদ মুম্বই থেকে টেক-অফ করে অজিত পাওয়ারের ফ্লাইট। ৮টা ৪৪-এ ভেঙে পড়ে সেই বিমান। প্রাথমিক ভাবে অজিতের বিমানের উড়ানে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার সময়ে বিমানের গতি ছিল ১০৩৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটি ১০১৬ মিটার উচ্চতায় নেমে আসে। কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তে এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন পাইলট। জানিয়েছিলেন, রানওয়ে তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। বাতাসের গতিবিধি এবং দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন পাইলট।
উত্তরে তাঁকে জানানো হয়েছিল, দৃশ্যমানতা প্রায় ৩,০০০ মিটার। এর পর বিমানটিকে একবার চক্কর খাইয়ে পুনরায় অবতরণ করানোর চেষ্টা করেন পাইলট। এই সময় পাইলট জানিয়েছিলেন তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। এটিসি থেকে ঠিক সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে আর কোনও উত্তর মেলেনি। এর পরেই ৮টা ৪৪ মিনিট নাগাদ দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায় রানওয়েতে।
দুর্ঘটনার সময়ে মাঝারি মাপের ওই চার্টার্ড বিমানটিতে এনসিপি নেতা অজিত-সহ পাঁচ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং দু’জন ছিলেন বিমানকর্মী। দুর্ঘটনায় পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলায় সেই বারামতীতেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে অজিতের। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী, অজিতের কাকা তথা তথা এনসিপি (এসপি)-র প্রধান শরদ পওয়ার প্রমুখ।