বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। কী খাওয়া উচিত এবং কী এড়িয়ে চলা প্রয়োজন— এই প্রশ্ন এখন প্রায় প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন ভাবনার অংশ। বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে মানুষ আরও বেশি সতর্ক হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা নিরামিষ বা উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, যাঁরা নিয়মিত উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্য গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যেতে পারে।
বিশেষ করে অন্ত্রের ক্যান্সার বা কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা কিছুটা বেশি লক্ষণীয়। যদিও এই পার্থক্য খুব বড় নয়, তবুও স্বাস্থ্য সচেতনতার নিরিখে তা গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস বলতে মূলত এমন এক ধরনের খাবারকে বোঝায়, যেখানে মাংস ও মাছ বাদ দিয়ে ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, শস্য, বাদাম এবং বীজের উপর জোর দেওয়া হয়। এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর উপাদানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। একইসঙ্গে ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিস্কার রাখতেও সহায়ক ভূমিকা নেয়। এই দুটি উপাদান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।তবে শুধুমাত্র নিরামিষভোজী হওয়াই যথেষ্ট নয় বলেও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
যদি খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত ভাজাভুজি, প্যাকেটজাত বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার থাকে, তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে সুষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি— তা নিরামিষ হোক বা আমিষ।
এছাড়াও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকা— এই সমস্ত অভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার এই সমন্বিত প্রয়াসই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হতে পারে।