আবহাওয়ার খামখেয়ালী চলছে। এই গরম তো সন্ধেতে ঝড়বৃষ্টি। যার ফলে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রকোপ বাড়ছে। পাশাপাশি অনেকেই আবার ভুগছেন পেট খারাপের সমস্যায়। তাঁদের হুট করে শুরু হয়ে যাচ্ছে লুজ মোশান-ডায়েরিয়া। তারপর বারবার ছুটতে হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হল, এমন পরিস্থিতিতে পড়লে আদতে কী করবেন? কীভাবে পেট খারাপের সমস্যা থেকে মিলবে মুক্তি? আর আজকের নিবন্ধে এই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করব। ডায়েরিয়া হলে সবার প্রথমে আপনাকে ওআরএস খাওয়া শুরু করে দিতে হবে। এক লিটার জলে একটা গোটা প্যাকেট ওআরএস মিশিয়ে দিন। তারপর ধীরে ধীরে খেতে থাকুন।
এই পানীয়টি আপনার অন্ত্রে উপস্থিত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াকে মারবে না। তবে ডায়ারিয়া হলে যে জল এবং খনিজ দেহ থেকে বেরিয়ে যায়, সেগুলির ভারসাম্য ফেরাবে। এই ভারসাম্য থাকলেই আর চিন্তা নেই। শরীর এমনিই সারিয়ে তুলবে। এর বাইরে কোনও ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
অনেকেই ডায়েরিয়া শুরু হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খান। আর সেটাই বিপদ বাড়ায়। আসলে অধিকাংশ ডায়েরিয়া নিজের থেকেই সেরে যায়। অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না। এমন পরিস্থিতিতে অহেতুক ভুল অ্যান্টিবায়োটিক খেলে এই ওষুধের রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। যার ফলে পরবর্তী সময় ওই ওষুধ কাজ না করতেও পারে। সুতরাং এই বিষয়টা নিয়ে সাবধান হন।
এখন অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, প্রোবায়োটিক খান ডায়েরিয়া হলে। আর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এটা খান। এই ভুলটা করেন বলেই বিপদ বাড়ে। আসলে সব সমস্যার জন্য সব প্রোবায়োটিক নয়। তাই অহেতুক প্রোবায়োটিক খাবেন না।
এই সময় ভাজাভুজি খাবেন না। এমনকী চলবে না কোনও সফট ড্রিংক। তার বদলে হালকা খাবার খান। ভাত, ডাল, মাছ, ডিম খেতে কোনও সমস্যা নেই। এগুলি খেতে পারেন।
পেট খারাপের সঙ্গে অনেকেরই বমি হয়। এমন ক্ষেত্রে লিকুইড অ্যান্টাসিড খাওয়া যেতে পারে। আর একটু বেশি হলে ডমপেরিডন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যায়। তবে বমি না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তখন ইঞ্জেকশন দেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
বারবার বাথরুমে ছুটতে হলে৷ শরীর খুব খারাপ লাগলে৷ প্রেশার অনেকটা কমে গেলে বা থিতিবে পড়তে শুরু করলে৷ মলের সঙ্গে রক্ত বেরলে৷ শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়তে শুরু করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নইলে বিপদ বাড়বে।