ছোট হোক বা বড়ো, নখ কামড়ানোকে সাধারণত বদ অভ্যাস হিসেবে ধরা হয়। নখ কামড়ানোর অভ্যাসকে আমরা অনেকেই তুচ্ছ বলে মনে করি। অনেক সময় অজান্তেই, কখনও কাজের ফাঁকে বা অবসরে বসে থাকতে থাকতে দাঁত দিয়ে নখ কাটতে থাকি। কিন্তু এই আপাত নিরীহ অভ্যাসই শরীরের জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমনকী এই অভ্যাস পঙ্গু পর্যন্ত করে দিতে পারে। এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
মনোবিদদের মতে, নখ কামড়ানো শুধু একটি সাধারণ অভ্যাস নয়, এটি আসলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। যখন কেউ বেশি দুশ্চিন্তায় ভোগেন বা মানসিকভাবে অস্থির থাকেন, তখন নিজের অজান্তেই তিনি এই কাজটি করতে শুরু করেন। এতে সাময়িকভাবে মানসিক চাপ কিছুটা কমলেও, ধীরে ধীরে এটি একটি স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হয় এবং শরীরের ক্ষতি শুরু করে।
এই অভ্যাসের ফলে আঙুলের চারপাশের কোমল চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বারবার কামড়ানোর কারণে চামড়া ছিঁড়ে গিয়ে সেখানে ছোট ছোট ঘা তৈরি হয়। আমাদের মুখের ভিতরে নানা ধরনের জীবাণু থাকে, যা সাধারণ অবস্থায় ক্ষতিকর না হলেও, ক্ষতস্থানের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর ফলে নখের গোড়ায় পুঁজ জমা, ফোলা ও ব্যথা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যদি এই সংক্রমণ অবহেলা করা হয়, তাহলে তা ধীরে ধীরে নখের নিচের অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আরও গুরুতর অবস্থায় সংক্রমণ আঙুলের গভীরে পৌঁছে গিয়ে হাড় পর্যন্ত ক্ষতি করতে পারে। তখন পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে আক্রান্ত অংশ কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। অর্থাৎ, একটি ছোট অভ্যাসের জন্য স্থায়ীভাবে শরীরের একটি অংশ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
তবে এই অভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব নয়। প্রথমেই প্রয়োজন নিজের মনকে শান্ত রাখা। নিয়মিত শরীরচর্চা, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান মনকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া কিছু সহজ পদক্ষেপ নিলে এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব।
যেমন, নখ সবসময় ছোট করে কেটে রাখা উচিত, যাতে কামড়ানোর সুযোগ না থাকে। নখে তেতো স্বাদের নিরাপদ কোনও প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা কামড়াতে গেলে বিরক্তি তৈরি করবে। এছাড়া যখনই নখ কামড়ানোর ইচ্ছা হবে, তখন হাতকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা— যেমন বল চেপে ধরা বা কিছু আঁকাআঁকি করা— উপকারী হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যদি এই অভ্যাস খুব বেশি মাত্রায় বেড়ে যায় বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।
তাই নখ কামড়ানোর অভ্যাসকে কখনও হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। সামান্য অসাবধানতাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপই পারে এই ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে আমাদের দূরে রাখতে।