প্রায় মহামারির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে ইবোলা ভাইরাস। আফ্রিকার কঙ্গো ও উগান্ডায় এর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। আফ্রিকার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইবোলা। ইতিমধ্যে একাধিক দেশে এই সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর জেরে সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত ভারত-আফ্রিকা চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার চিন্তার বিষয় ইবোলার ভাইরাস প্রতিরোধ করতে আগে টিকা তৈরি হলেও তা কার্যকর হয়নি। সেকারণে নতুন করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এই ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টা করছে।
ইবোলা সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সেভাবে কোনও চিকিৎসা নেই। তবে ইবোলার সংক্রমণ যে মারাত্মক পর্যায়ে যেতে পারে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইবোলার পাঁচ রকম প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে তিনটি খুবই সংক্রামক। এদের সংক্রমণে মৃত্যুর হার বেশি। এমন প্রজাতিকে ঠেকাতে প্রতিষেধক প্রয়োজন। ইতিমধ্যে সেই টিকা তৈরির কাজই শুরু করেছে পুণের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলে নতুন টিকা তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে। সিরামের তরফে জানানো হয়েছে ২০-৩০ দিনের মধ্যে এই টিকা তারা বাজারে আনার চেষ্টা করছে।
ইবোলা ভাইরাসের মূল বাহক এক প্রজাতির বাদুড়। পরে ওই বাদুড় থেকে বিভিন্ন প্রাণীর দেহে রোগটির সংক্রমণ ঘটে। কোনোভাবে কেউ আক্রান্ত প্রাণীদের মাংস খেয়ে ফেললে বা সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। ইবোলার সংক্রমণ হলে শুরুতে জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের সংক্রমণ হয়। ধীরে ধীরে হার্ট, লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একাধিক অঙ্গ বিকল হতে থাকে। শেষে মৃত্যু ঘটে রোগীর।
‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির’ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভারতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৬০- ৭০ হাজার মানুষ। ভারতে ২০১১ সালে প্রথম এই ইবোলা ভাইরাস হানা দেয়। এরপর থেকে গত কয়েক বছরে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। বর্তমানে ভারতে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা না থাকলেও যে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পেশাগত কারণে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে রয়েছেন, তাঁরা নিয়মিত ওইসব দেশ থেকে যাওয়া আসা করেন। আর সেখানেই সংক্রমণের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।