শতবর্ষে প্রতাপ চন্দ্র মেমোরিয়াল হোমিওপ্যাথিক কলেজকে ঘিরে আবেগঘন উদ্‌যাপন

এক শতাব্দীর পথচলা, চিকিৎসা শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং মানুষের সেবায় নিরলস অবদান—এই তিনকে কেন্দ্র করেই উদ্‌যাপিত হল প্রতাপ চন্দ্র মেমোরিয়াল হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল ও কলেজের শতবর্ষ। কলকাতার জোড়াসাঁকোর রথীন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মিলিত হন প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই প্রতিষ্ঠান বাংলায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছে। শুধু চিকিৎসা শিক্ষা নয়, সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ ও কার্যকর চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই কলেজের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একসময় বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে নানা সংশয় থাকলেও, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও চিকিৎসকেরা তাঁদের গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

শতবর্ষের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডঃ রামজি সিং, অসীশ দত্ত, ডঃ ভাবতোষ বিশ্বাস, ডঃ এস. আই. হুসেন, ডঃ অভিজিৎ চট্টার্জী এবং ডঃ সুভাষ সিংহ


এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডঃ বি. পি. দাস এবং ডঃ সাহিদুল ইসলাম

অনুষ্ঠানে প্রাক্তনীরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান শুধু চিকিৎসক তৈরি করে না, মানুষের সেবায় নিবেদিত একজন চিকিৎসক হয়ে ওঠার শিক্ষা দেয়।’ এই বক্তব্যেই যেন ধরা পড়ে প্রতিষ্ঠানের মূল দর্শন।

শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রবীণ চিকিৎসকদের সম্মান জানানো হয়। তাঁদের দীর্ঘদিনের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়, যাতে ভবিষ্যতের চিকিৎসকেরা অনুপ্রাণিত হতে পারেন।

আয়োজকদের বক্তব্য, এই শতবর্ষ কেবল অতীতের গৌরবের স্মারক নয়, ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথচলার সূচনা। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হোমিওপ্যাথিকে আরও গবেষণাভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চায় এই প্রতিষ্ঠান।

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী জোড়াসাঁকোর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যেন একসঙ্গে মিলিয়ে দিল অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—একটি প্রতিষ্ঠান, একটি দর্শন এবং মানুষের সেবার অঙ্গীকারকে।