কোমরে ব্যথা, হাত-পায়ের গাঁটে ব্যথা, উঠতে বসতে মারাত্মক কষ্ট। এ ধরনের ব্যথার সমস্যা আজ প্রায় প্রতিটা বাড়িতে। ব্যথা কমাতে অনেকেই নিয়মিত বাজার চলতি বিভিন্ন ওযুধ খান। কিন্তু নিজেদের ইচ্ছামতো এই ওষুধ ব্যবহারেই লুকিয়ে রয়েছে বড় ধরনের বিপদ। কারণ, ব্যথার ওষুধে লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যা অনেকেই জানেন না।
ব্যথার ওষুধে প্রথম ও প্রধান ক্ষতি হল, এই ওষুধগুলো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ট্রাক্টের মিউকোসায় ইরোসন, আলসার, ব্লিডিং, স্ট্রিকচার এবং পারফোরেশন করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এইসব ওষুধ লিভার ও অগ্ন্যাশয়ের ক্ষতি করে। ফলে হেপাটাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত ব্যথার ওষুধ ভয়ঙ্করভাবে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। হঠাৎ করে রোগীর রেনাল ফেলিওর হতে পারে।
সাধারণত বয়স্ক মানুষেরা অনেকেই ব্যথায় ভোগেন। ব্যথা কমাতে তাঁরা নিয়মিত ওষুধও খান। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে নিয়মিত ব্যথার ওষুধ খেলে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা আরও বেশি। একই কথা প্রযোজ্য মহিলাদের ক্ষেত্রেও। অধিকাংশ মহিলাই গাঁটের ব্যথা, মাথা ব্যথায় ভোগেন। পিরিয়ডের সময় ব্যথা বাড়লে ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পরিমাণও বাড়ে। ফলে শারীরিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়ে। যাঁরা পেপটিক আলসারে ভুগছেন তাঁরা ব্যথার ওষুধ বেশি খেলে আলসার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই ব্যথার কোন ওযুধে কতটা বিপদ লুকিয়ে আছে সেটা জানা দরকার। সাধারণত হালকা ব্যথায় প্যারাসিটামল ভালো কাজ করে। এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা পেটের অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আইবুপ্রফেন এবং ডাইক্লোফেনাকের মতো ওষুধেও ক্ষতির তেমন সম্ভাবনা নেই। তবে ইন্ডোমেথাসিন এবং কেটোপ্রোফেন সরাসরি ক্ষতি করে। কিছু ব্যথা নিরাময়ক ওষুধ খাওয়ার ফলে হার্টের ক্ষতি হচ্ছে বলে দেখা গিয়েছে। তাই ওই সব ওষুধের ব্যবহার সারা পৃথিবীতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই ব্যথার ওষুধ খেতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে। কেউ কোনও রকম ব্যথার সমস্যায় ভুগলে তাঁর উচিত প্রথমেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। নিজের ইচ্ছামতো সহজলভ্য ব্যথার ওষুধ কেনা একেবারেই উচিত নয়। চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন, খালিপেটে ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভালো। পেটের ব্যথা কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিয়ে তবেই ব্যথার ওষুধ খেতে হবে। ব্যথা নিয়ে নিজের মতো ডাক্তারি করলে সমস্যা কমার বদলে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।