নন–অ্যালকহলিক প্রায় ৪০ শতাংশ ভারতীয় ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ভারতে ফ্যাটি লিভার রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ – সাউথইস্ট এশিয়া জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৮.৯ শতাংশ ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে ফ্যাটি লিভার রোগের উপস্থিতি রয়েছে, অর্থাৎ ৪ জনের মধ্যে একজন এই রোগে আক্রান্ত।
এই গবেষণাটি যাঁরা নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করেন না তাঁদের উপর করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই লিভার ফাইব্রোসিসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জটিল শারীরিক সমস্যা ইঙ্গিত বহন করে। তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের হার ৪৫.৯ শতাংশ, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে তা ৩৩ শতাংশ। এই তথ্য খুবই উদ্বেগজনক। গবেষকদের মতে, শহরের জীবনের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বিপাকের সমস্যাই এই রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার মূলত দুই ধরনের—অ্যালকোহলিক এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। তবে এই গবেষণায় যাঁরা নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করেন, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগের পেছনে রয়েছে বিপাকের সমস্যা। বর্তমানে এই অবস্থাকে বলা হয় মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিটোটিক লিভার ডিজিজ। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন, রক্তে উচ্চ শর্করা এবং ডায়াবেটিস থাকলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হল, প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যাটি লিভার প্রায় সম্পূর্ণ উপসর্গহীন। ফলে বহু মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাঁরা এই রোগে আক্রান্ত। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে এই রোগ থেকে লিভার ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এমনকি লিভার ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬.৩ শতাংশের ফাইব্রোসিসের প্রবণতা রয়েছে, যা স্থূলতা ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বেড়ে ৮–৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা ফ্যাটি লিভারকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে আল্ট্রাসাউন্ড বা ফাইব্রোস্ক্যানের মাধ্যমে স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি জীবনধারায় পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত করলেই এই রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এই ঝুঁকিতে থাকায় এখনই সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
অঞ্চলভেদে রোগের প্রকোপেও বড়সড় পার্থক্য ধরা পড়েছে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ফ্যাটি লিভারের হার কেরলের তিরুবনন্তপুরমে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডের রুরকি এবং মধ্যপ্রদেশের ভোপালে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক, এই দুই শহরে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়াও দেশের বড় বড় মহানগরগুলিতেও ফ্যাটি লিভারের হার কম নয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দরাবাদ এবং চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলিতে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ ৩৭ থেকে ৪২ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।