থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল সেরাম থ্যালাসেমিয়া প্রিভেনশন ফেডারেশন। কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও চিকিৎসক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থ্যালাসেমিয়া একটি গুরুতর রক্তজনিত সমস্যা, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আগাম সচেতনতা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক শনাক্ত করা। সেই লক্ষ্যেই বৃহৎ আকারে রক্ত পরীক্ষা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সংগঠনের কর্ণধাররা। তাঁরা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একসঙ্গে প্রায় এক লক্ষ মানুষের রক্ত পরীক্ষা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু মানুষ আগে থেকেই জানতে পারবেন তাঁরা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না।
সংগঠনের সম্পাদক সঞ্জীব আচার্য বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হল আগামী প্রজন্মকে এই রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখা। যদি আগে থেকেই জানা যায় কেউ বাহক, তাহলে সঠিক পরামর্শ ও সচেতনতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
তিনি আরও জানান, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই পরীক্ষা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তুললে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত সন্তানের জন্ম অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া অন্যান্য সংগঠনগুলিও জানান, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁরা এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। বৃহৎ পরিসরে এই ধরনের পরীক্ষা হলে সমাজে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনই থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগকে চিকিৎসক মহল এবং সমাজকর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের কর্মসূচিই থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গঠনের পথে বড় ভূমিকা নেবে।