মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টি-বায়োটিকের ব্যবহারই ডেকে আনছে বিপদ। মামুলি জ্বর, সর্দি-কাশিতেও যে ভাবে দেদার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে, তাতে উদ্বিগ্ন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর। আইসিএমআর-এর সমীক্ষায় ধরা পড়েছে যে কোনও রোগের ক্ষেত্রে ইচ্ছামতো ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে রাশ টানতে এবার সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন আনতে চলেছে কেন্দ্র।
শনিবার বেলেঘাটায় প্রয়াত বাঙালি চিকিৎসক-বিজ্ঞানী দিলীপ মহলানবিশের আবক্ষ মূর্তি উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব তথা আইসিএমআর-এর মহা নির্দেশক রাজীব বহেল। সেই অনুষ্ঠানেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ে বহেল তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বহেল বলেন, ‘ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের প্রবণতা রুখতে আইসিএমআর জোরকদমে নতুন নির্দেশিকা তৈরির কাজ চালাচ্ছে। অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগের নির্দিষ্ট কারণ নির্ণয়ের আগেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের এই অতি ব্যবহারের ফলেই জীবাণুর মধ্যেও ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। এই বিষয়টি ভবিষ্যতে চিকিৎসাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।’
আইসিএমআর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত নির্দেশিকায় চিকিৎসকদের জন্য সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা থাকবে। ওই নির্দেশিকাতেই স্পষ্ট বলা থাকবে, কোন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার পর ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে এবং কতদিন অ্যান্টিবায়োটিক চালাতে হবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অবশ্য চিকিৎসকরা পরীক্ষার আগেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে এটা সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসকের দক্ষতা ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইসিএমআর-এর এই গাইডলাইন কার্যকর হলে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার অনেকটাই কমবে। সেক্ষেত্রে রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হবে।