ডা. প্রকাশ মল্লিক
জন্মের পর থেকে শরীরের গঠন প্রক্রিয়া চলে ৩০ বছর পর্যন্ত। তারপর গঠন প্রক্রিয়া থেমে থাকে ৪৫ বছর পর্যন্ত। পঁয়তাল্লিশের পর থেকে ডিজেনারেশন বা ক্ষয় শুরু হতে থাকে, যা চলে মানুষের মৃত্যু অবধি। এই ক্ষয় পর্বে প্রথম সংকেত দেয় হাঁটু। হাঁটা চলায় সমস্যা হতে শুরু করে। যন্ত্রণার জন্য হাঁটা চলা ও দৈনন্দিন কাজে ভয়ানক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। হাঁটুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মালাই চাকি। গোলাকার ছোট হাড়, যা বাইরে থেকে হাত দিলে অনুভব করতে পারা যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘পাটেলা’। মালাইচাকি মাসকে ধরে রাখে। লিগামেন্ট ও টেন্ডনগুলিকে সাপোর্ট করে, যাতে চলাফেরা, ওঠাবসা, দাঁড়ানো, সিঁড়িভাঙ্গা পা স্ট্রেট করা, দৌড়ানো, বসার মতো কাজগুলি সঠিক ভাবে হতে পারে। মালাইচাকি বিকল হয় নানা কারণ, যেমন– বয়সের কারণে, দুর্ঘটনায় ও জন্মগত কারণে। আর এতেই হাঁটাচলার স্বাভাবিক ছন্দে ছেদ পড়ে। হাঁটুর সমস্যা একদিনে নয় ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই সমস্যা টের পেলেই অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন তিরিশের কোঠায় বা তারচেয়ে বেশি বয়সী পুরুষ ও মহিলারা। এর ফলে মালাইচাকি কার্টিলের বা তরুনাস্তির আস্তরণ রুক্ষ হয় ফলে ফিমারের তলার অংশ ঘষা লেগে কার্টিলেজের ক্ষতি হয়। পরিণতিতে ব্যথা, হাঁটু ফুলে লাল হয়ে যাওয়া, কটকটানি শব্দ আঘাত জনিত কারণে, অতিরিক্ত ওজন তোলা, খেলাধূলা, ভুলভাবে শরীরচর্চা করার কারণে৷
শরীরের অতিরিক্ত ওজন ও অস্টিও আর্থারাইটিসের কারণে হাঁটুর উপর চাপ তৈরি হয়। শরীরের ওজন ঠিক মতো ধরে রাখতে পারে না। ফলে অসম চাপের কারণে কার্টিলেজের ক্ষয় হয়। এটা মেরামত করাত শরীর কার্টিলেজ তৈরি করতে পারে না, তার পরিবর্তে হাড় তৈরি করে যাকে বলা হয় অস্টিওফাইটিক গ্রোথ।
জয়েন্টের মধ্যে জন্মানো এই হাড় চাপের মুখে ভেঙ্গে টুকরো হয়ে জয়েন্টের মধ্যে ঘুরতে থাকে। কার্টিলেজ পুষ্টি পায় জয়েন্টের ভিতরের তরল পদার্থ থেকে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে শরীরের ওজন অনেকক্ষণ হাঁটুর উপর না পড়ে। নিয়মিত হাঁটুর ব্যায়াম করতে হবে। এছাড়া দক্ষ হোমিওপ্যাথী, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ওষুধ খেলে হাঁটুর ব্যথা ও অন্যান্য সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে। হাঁটু ভালো রাখতে সুষম আহার প্রয়োজন। জাংক ফুড ও অতিরিক্ত ঘি, তেল, মশলা যুক্ত খাদ্য এড়িয়ে চলতে হবে।
ঘর মোছার জন্য লাঠি ও স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে হবে। দাঁড়িয়ে রান্না করার ফাঁকে মাঝে মাঝে চেয়ারে বসে বিশ্রাম নিতে হবে। শরীরের ওজন যত বাড়ে হাঁটুর উপর তত চাপ পড়ে তাহলে হাঁটুর উপরে তত চাপ পড়ে ও হাঁটুর ক্ষতি হয়।