কিডনির জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে ঘি,দুধ 

বর্তমানে কিডনি সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রোগীদের নিয়মিত ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতি এড়াতে খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, প্রতিদিনের খাবার সরাসরি কিডনির উপর প্রভাব ফেলে এবং কিছু খাবার রোগের অবনতি ঘটাতে পারে।দেরাদুনের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডা. সিরাজ সিদ্দিকি জানিয়েছেন, যাঁদের শরীরে ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিয়ার মাত্রা বেড়ে যায়, তাঁদের কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

তাই কিডনি রোগীদের কিছু খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘি ও দুধের মতো খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। কারণ এগুলিতে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি, যা কিডনির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।চিকিৎসকদের পরামর্শ, কিডনি রোগীদের জন্য হালকা ও সহজপাচ্য খাবার বেশি উপযোগী। যেমন গাজর, মূলো, ফ্রেঞ্চ বিনস, মুগ ডাল এবং মুসুর ডাল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। ফলের মধ্যে ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, ডালিম, আপেল ও আনারস কিডনি রোগীদের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।

এছাড়া অল্প পরিমাণে মুরগির মাংস খাওয়া যেতে পারে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন জোগায়। তবে মাছ ও লাল মাংস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেতে হলে ডাবল টোনড দুধ বেছে নেওয়া ভালো।খাবারের তেলের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। পরিশোধিত তেল, দেশি ঘি ও মাখন এড়িয়ে চলা উচিত। এর বদলে ঘানিতে ভাঙানো সর্ষের তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।


ফলের মধ্যে কলায় পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় কিডনি রোগীদের তা না খাওয়ারই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।সবজির ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঢেঁড়শ, কুমড়ো ও লাউয়ের মতো সবজি সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাসই কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়। তাই রোগের অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাদ্যতালিকা তৈরি করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।