কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। সম্প্রতি এই আলোচনায় নাম জড়িয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের। ভ্যাকসিনের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর তাঁর মনে হয়, তাঁর বোধহয় মৃত্যুর সময় উপস্থিত। মাস্কের এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসতেই ফের বিতর্কের সূত্রপাত।
প্রসঙ্গত, জার্মানির সংসদে কোভিড ভ্যাকসিনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ফাইজার কোম্পানির প্রাক্তন টক্সিকোলজিস্ট হেলমুট স্টার্জ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জার্মানির সংসদের শুনানির প্রসঙ্গ উঠে আসে, যেখানে কোভিড টিকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় বলে দাবি। সেই ভিডিও দেখার পর মাস্ক ভ্যাকসিন নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ বোধ করেছিলেন এবং এমনকি মনে হয়েছিল তাঁর হয়তো প্রাণসংশয় হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে ফাইজারের প্রাক্তন টক্সিকোলজি বিশেষজ্ঞের বক্তব্য ছিল এমআরএনএ (mRNA) প্রযুক্তির ভ্যাকসিনের অনুমোদন নিয়ে। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই অনুমোদন দেওয়া একেবারেই উচিত হয়নি। তাঁর আরও দাবি, এই ভ্যাকসিনের কারণেই জার্মানিতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক।স্টার্জের সেই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে। পাশাপাশি টিকা-পরবর্তী মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে কিছু পরিসংখ্যানও উল্লেখ করা হয়। যদিও এই সমস্ত মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি ভ্যাকসিনের সম্পর্ক বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
স্টার্জের বক্তব্যকে সমর্থন করে ইলন মাস্ক আরও বলেন, ‘এই ভ্যাকসিন নিয়ে এত বিস্ফোরক একটি দাবি করা হলেও সংবাদমাধ্যম বিষয়টি কীভাবে এড়িয়ে গেল, সেখানেই তাঁর প্রশ্ন। কোথাও বিষয়টিকে প্রকাশ্যে আনা হল না।’ এছাড়া ভারতে কোভিড টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়ে যে দাবিগুলি মাঝেমধ্যে সামনে এসেছে, সেগুলিও আবার এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে, এই বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অধিকাংশ বৈজ্ঞানিক গবেষণার অবস্থান হলো—কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বহু পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে অনুমোদিত হয়েছে এবং এই ভ্যাকসিনের কারণে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঘটনা খুবই বিরল। এছাড়া ভ্যাকসিনের সঙ্গে বড় পরিসরে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।