নাক ডাকার সমস্যাকে অবহেলা না করার পরামর্শ চিকিৎসকের

বাড়িতে কেউ ভয়ঙ্কর নাক ডাকে? নাক ডাকার ফলে আপনার ঘুমের বারোটা বাজছে? কিন্তু তা সত্ত্বেও বিষয়টি অবহেলা করছেন? এর ফল ভয়ানক হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।  নাক ডাকার সমস্যা নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাক ডাকার জন্য কী কী বিপদ হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি এর থেকে মুক্তির উপায়ও বলে দেন।
চিকিৎসকের মতে, নাক ডাকা নিয়ে আমরা হাসাহাসি করি খুবই। এটি কারও অকস্মাৎ মৃত্যুর কারণ হতে পারে। নাক ডাকা আদতে ভয়ঙ্কর অসুখের ইঙ্গিত। প্রায় সব বাড়িতেই নাক ডাকার বিষয়টি অবহেলা করা হয়। কেউ নাক ডাকছে মানে তাঁর ব্রেনে অক্সিজেন কম যাচ্ছে। এটি কম বেশি সকলের কাছেই জানা বিষয়। কিন্তু ব্রেনে অক্সিজেন না গেলে কী হতে পারে, তা অনেকেরই অজানা।
ব্রেনে অক্সিজেন না গেলে ব্রেনের সার্কুলেশন কমে যায়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, আমাদের শরীরে একটা অটো রেগুলেশন আছে, ব্রেনে ব্লাড সার্কুলেশন কমলে তো হবে না। তাই তখন অটোমেটিক্যালি ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায় শরীরের। শরীর চেষ্টা করে ব্রেনের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে। যাতে ব্রেনে কোনও সমস্যা না হয়। তবে সেই সময় ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়।
চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘুমানোর সময় নাক ডাকা ও ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়ার ফলে ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে। যাঁরা অসম্ভব নাক ডাকে, রাতে তাঁদের ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়। অনেকসময় নাক ডাকার জন্য ব্রেনে হ্যামারেজ হয়ে মানুষ মারা যান। ঘুমের মধ্যেও অনেকের মৃত্যু হয়। সেই কারণে নাক ডাকাকে অবহেলা করলে চলবে না। চিকিৎসকের মতে, নাক ডাকা একটা রোগ, ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’। এতে ব্রেনে ক্রনিক্যালি অক্সিজেন কম গেলে সকালে মানুষ ঝিমিয়ে পড়ে। কিন্তু তার কারণ কেউ বুঝতে পারে না। দুর্বল লাগা সাধারণ সমস্যা ধরে নিয়ে সকলেই অবহেলা করে। কিন্তু রাতে প্রেশার বেড়ে গিয়ে হার্ট ফেলিওর হতে পারে।
এর থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিয়েছেন ড. বন্দ্যোপাধ্যায়।  নাক ডাকার সমস্যা থেকে বাঁচতে সিপ্যাপ মেশিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এই মেশিন ব্যবহার করলে কনটিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার থাকে। তার ফলে ব্রেনে ঠিক মতো অক্সিজেন যেতে পারে। যদিও যে কোনও পদক্ষেপ করার আগে ইএনটি বিশেষজ্ঞ দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নাক বাঁকা থাকলেও নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে। সেই কারণে শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকই এই নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ বলে দিতে পারে। সেই কারণে নাক ডাকার সমস্যা দেখা দিলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন ড. বন্দ্যোপাধ্যায়।