ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসায় যেমন নতুন নতুন থেরাপি নিয়ে গবেষণা চলছে, তেমনই রোগ প্রতিরোধের দিকেও চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেকটাই এগিয়েছে। বর্তমানে এমন কিছু টিকা রয়েছে, যা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যদিও এখনও বহু ভ্যাকসিন গবেষণার স্তরে রয়েছে, তবু ভারতে কয়েকটি ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হল এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন, যা জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর। এইচপিভি ভাইরাসের বহু প্রজাতির মধ্যে কয়েকটি থেকে ক্যানসার হয়। ৯ থেকে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত এই টিকা নেওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯ থেকে ১২ বছর বয়স টিকা নেওয়ার আদর্শ সময়, কারণ এই বয়সে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। বয়সভেদে দু’টি বা তিনটি ডোজে টিকা দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশে সার্ভাভ্যাক, গার্ডাসিল ৪, গার্ডাসিল ৯ এবং সার্ভারিক্স, এই চার ধরনের এইচপিভি টিকা পাওয়া যায়, যার দাম সাধারণত প্রতি ডোজ ২ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ টিকা হল হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন। এই ভাইরাস দীর্ঘদিন শরীরে থাকলে লিভার ক্যানসার ও সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। যদিও এটি সরাসরি ক্যানসারের টিকা নয়, তবু লিভার ক্যানসার প্রতিরোধে এই টিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত তিনটি ডোজে এই টিকা দেওয়া হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এটি নেওয়া যেতে পারে। বেসরকারি ক্ষেত্রে এই টিকার খরচ তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। এছাড়া বিসিজি টিকা মূলত যক্ষ্মা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হলেও, মূত্রথলির ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসারের ফিরে আসা রুখতেই রোগীদের এই টিকা চিকিৎসার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়।