মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখা মানেই শুধু স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা বা বার্ধক্য ঠেকানো নয়। ঘুম, মানসিক চাপ, শরীরচর্চা, মদ্যপান এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার নানা অভ্যাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কাজ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব ব্রেন হেলথের অন্যতম বড় ঝুঁকি।
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের ক্রনিক স্ট্রেস মস্তিষ্কে গঠনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় কর্টিসল সকালে বেশি এবং রাতে কম থাকার কথা। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে এই হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। অতিরিক্ত স্ট্রেস হিপোক্যাম্পাস ও প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সকে প্রভাবিত করে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে অনেকেই এই সমস্যাকে ডিমেনশিয়ার লক্ষণ বলে ভুল করেন।
আরও পড়ুন: ৪০০০ মৃত্যু, হাতে নেই ভ্যাকসিন: মারণ ভাইরাসের ঢেউ আছড়ে পড়েছে, দুয়ারে আরেকটা অতিমারী
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ঠিক আট ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে, এমন ধারণাও পুরোপুরি ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের প্রয়োজন ব্যক্তিভেদে আলাদা। কারও ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট হতে পারে, আবার কারও বেশি সময় ঘুমের প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা এবং শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সকালে ১০-১৫ মিনিট প্রাকৃতিক আলোয় থাকাও উপকারী।
অ্যালকোহল নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। দীর্ঘদিন নিয়মিত মদ্যপান মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, নতুন ভাষা শেখা, ছবি আঁকা, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকার মতো অভ্যাস ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ বজায় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত মানসিক অনুশীলন তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।