সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার প্রাথমিক টোটকা হিসেবে প্রথমেই মনে পড়ে চায়ের কথা। শুধু তাই নয়, ঘরোয়া আড্ডা হোক কিংবা অফিসে চরম ব্যস্ততার সময়, সবেতেই টোটকার মতোন কাজ করে এই একটি পানীয়। বাঙালীদের কাছে চায়ের জুরি মেলা ভার। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা যে ঋতুই হোক না কেন এই পানীয়ের কিন্তু সবেতেই অবাধ বিচরণ। সারাদিনের কাজের ফাঁকে এক কাপ চায়ে চুমুক না দিলেই যেন নয়। তবে বর্তমানে মানুষের মনে অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছে মশলা চা। কিন্তু মশলা চা কি খাওয়া ভালো? মশলা চায়ের পিছনে কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে জানেন?
মশলা চা-কে শুরুতে পানীয় হিসেবে নয়, ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হত। আর্য়ুবেদিক ফর্মুলা দিয়ে তৈরি এই পানীয় প্রথমে চিকিৎসকরা চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করতেন। ধীরে ধীরে তা চা হিসেবে পান করা শুরু হয়। তবে মশলা চা আর দুধ চা কিন্তু এক নয়। যে সব উপকরণ দিয়ে মশলা চা তৈরি হয়, সেগুলির প্রত্যেকটেরই নিজস্ব গুণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ প্রতিদিন মশলা চা পান করে তাহলে তার খারাপ কোলেস্টেরল যেমন কমবে, তেমনি ভালো কোলেস্টেরল বাড়বে। মশলা চায়ে দারুচিনি, লবঙ্গ, আদার মতোন উপকরণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
দারুচিনিতে জীবানুণাশক গুণ রয়েছে, যা ব্যকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস রোধে সাহায্য করে। অন্যদিকে, লবঙ্গ বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু রোধ করতে বেশ কার্যকর। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ নিয়মিত চা পান করেন। যার গড় পরিমাণ দৈনিক প্রায় ৩ কাপ। এর ফলে দেখা গিয়েছে, সারাদেশে প্রতিদিন মোট ১ বিলিয়ন কাপেরও বেশি চা পান করা্ হয়। ভারতকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।
বর্তমানে মশলা চা শুধুমাত্র রাস্তার ধারে চায়ের দোকানেই নয়, বড় বড় ক্যাফের মেনুতেও জায়গা করে নিয়েছে। কোনও কোনও জায়গার মেনুতে তা মশলা চা ল্যাটে হিসেবেও পরিচিত। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও দামের হেরফের রয়েছে। স্বাদ ও দামের পরিবর্তন হলেও মশলা চা ধীরে ধীরে মানুষের মনে যে জায়গা করে নিচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।