নির্যাতিতা কিশোরীকে দত্তক নিতে চান উজ্জয়িনীর পুলিশ আধিকারিক 

উজ্জয়িনী ,  ৩০ সেপ্টেম্বর –  মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর রাস্তায় দিশেহারা অবস্থায় ঘুরছিল ধর্ষিতা কিশোরী।  সাহায্যের আর্তি জানালেও কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি।   এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এই কিশোরীর দুরবস্থা দেখে তাকে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রদেশের এক পুলিশ আধিকারিক। তিনি জানিয়েছেন , কিশোরীর পরিবার সম্মতি দিলে তিনি ওই কিশোরীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ছাড়াও আনুষঙ্গিক সমস্ত রকম দায়িত্বভার নিতে চান। 

উজ্জয়িনী শহরের মহাকাল থানার ইনস্পেক্টর অজয় বর্মা।  তিনি ধর্ষিতা কিশোরীর দায়িত্ব নিতে চান। নিজের মেয়ের মতো তাকে আগলে রাখতে চান। বারো বছরের ওই কিশোরীর ধর্ষণের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। মধ্যপ্রদেশ পুলিশও জানিয়ে দিয়েছে, ওই কিশোরীকে যারা সেদিন দরজা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধেও পক্ষ আইনে মামলা করা হবে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক অটোচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম রাকেশ মালবিয়। 
এই পরিস্থিতিতে উজ্জয়িনীর ধর্ষিতা কিশোরীকে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন মহাকাল থানার ইনস্পেক্টর অজয় বর্মা। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “কিশোরীর চিৎকার, ওর পরিস্থিতি দেখে আমি শিউরে উঠেছিলাম। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই , কিশোরীর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেব। ওকে দত্তক নেব। কিন্তু দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া আমার জানা নেই। ওই কিশোরীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সব রকম দায়িত্ব নিতে আমি রাজি।”

উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার সচিন শর্মা জানিয়েছেন, ইনস্পেক্টর অজয় বর্মা কিশোরীকে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও,  ওর পরিবারের সম্মতি দরকার। যদি তারা  অনুমতি দেয়, তা হলে কিশোরীর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবেন ইনস্পেক্টর বর্মা। ইনস্পেক্টর জানান, কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় থানার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে, কথাও হয়েছে। পরিবারের অনুমতি মিললেই দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

গত সোমবার উজ্জয়িনীর রাস্তায় এক কিশোরীকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় ঘুরতে দেখা যায়। তাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। রক্তাক্ত অবস্থায় সাহায্যের জন্য দরজায় দরজায়  ঘুরলেও কেউ এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ । যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে শিবরাজ সিং চৌহানের প্রশাসনকেও। যদিও পুলিশের দাবি, স্থানীয়রা অনেকে টাকা দিয়ে কিশোরীকে সাহায্য করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্তের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।  অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি যাতে হয়  তা নিশ্চিত করা হবে।