জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, গোয়া, নাগাল্যান্ডে হিন্দুদের সংখ্যালঘুর জবাব দিতে কেন্দ্রকে ২ সপ্তাহের নোটিস 

জম্মু, ১৮ জানুয়ারি — এখন আর দেশে সংখ্যালঘু মুসলিম নয়, দেশের বহু রাজ্য ও জেলায় হিন্দুরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় সংখ্যালঘু  । তাহলে কি সেই সব জেলা, রাজ্যে বসবাসকারী হিন্দুদের কি সংখ্যালঘু ঘোষণা করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের বক্তব্য দু সপ্তাহের মধ্যে জানাতে বলেছে। সর্বোচ্চ আদালত আরও জানতে চেয়েছে, সংখ্যালঘু ঘোষণা করার অধিকার কি কেন্দ্রীয় সরকার নিজের হাতে রাখতে চায়, নাকি রাজ্যগুলির হাতে ছেড়ে দেবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, সংখ্যালঘু ঘোষণার সুবাদে জম্মু কাশ্মীরের মতো মুসলিম প্রধান এবং খ্রিস্টান বহুল গোয়া, নাগাল্যান্ড, শিখ সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঞ্জাবে হিন্দুরা চাকরি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের বিশেষ সরকারি সুযোগ সুবিধাগুলি পাবেন।

সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত একটি মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার আগে জানিয়ে ছিল, এই বিষয়ে মামলাকারিদের দাবি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টির সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনায় রেখে সরকার ধীরে অগ্রসর হতে চায়।


দেশে এখন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু আছে। মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈনরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসাবে স্বীকৃত। রাজ্য ও জেলা বিশেষে হিন্দুদেরও সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিতে আর্জি পেশ করা হয় সুপ্রিম কোর্টে।

মূল মামলাটি করেছেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। তাঁর মামলায় পরে যুক্ত হয়েছেন কয়েকজন। কেন্দ্রীয় সরকার গোড়ায় এই বিষয়ে রাজ্যগুলিকে সিদ্ধান্ত নিতে বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মামলাকারিদের বক্তব্য, সিদ্ধান্ত কেন্দ্রকেই নিতে হবে। যাতে গোটা দেশে একই ব্যবস্থা বলবৎ হয়। রাজ্যগুলির উপর ছেড়ে দিলে অনেক রাজ্যই অগ্রসর হবে না।

ইতিমধ্যেই অরুণাচলপ্রদেশ, তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যগুলি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিজেদের অবস্থান জানায়নি।

বছর দুই আগে দায়ের হওয়া মামলাটিতে অসমের বিজেপি সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যুক্ত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে আগে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, হিন্দুদের জেলা বিশেষে সংখ্যালঘু ঘোষণার দাবি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, ত্রিপুরা, অসম, মেঘালয়, মণিপুর-সহ ১৪টি রাজ্য এবং দুটি কেন্দ্র শাসিত রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের কথা হয়েছে। রাজ্যগুলিও সময় চেয়েছে। এর মধ্যে পাঞ্জাব এবং উত্তর পূর্বের বেশ কিছু রাজ্য আছে যেখানে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। আবার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের মত জেলা অনেক রাজ্যেই আছে যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হল হিন্দুরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, আইন, শিক্ষা, সংখ্যালঘু মন্ত্রকের সঙ্গে তারা কথা বলেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলিও মতামত চূড়ান্ত করার জন্য সময় চেয়েছিল। কিন্তু আদালত বলেছে, অনেকটা সময় চলে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে সিদ্ধান্ত অবিলম্বে নিতে হবে।