আমেরিকা থেকে অস্ত্র ইজরায়েলের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে বাইডেন প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলল রাশিয়া  

দিল্লি, ১১ অক্টোবর, বুধবার পঞ্চম দিনে পড়ল ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ।  এই যুদ্ধে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি  মানুষ।   হামাসের কাছ থেকে গা়জ়া ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করল ইজ়রায়েল। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে  এদিন হামাস বাহিনীকে জোর ধাক্কা দিয়েছে বলে দাবি করেছে ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী। এদিন, গাজা ভূখণ্ডের খান ইউনিস জেলার আল ফুরকান এলাকায়  আকাশপথে হামলা চালিয়ে প্রায় ২০০ বাড়ি গুড়িয়ে দেয় ইজরায়েলি বাহিনী। প্রতিটিই হামাস যোদ্ধাদের কার্যালয়, অথবা বাড়ি বলে দাবি ইজরায়েলের। এর মধ্যে একটি বাড়ি হামাসের সামরিক প্রধান, মহম্মদ দেইফের বাবার বাড়ি বলে জানা গিয়েছে। ইজরায়েলি বোমার আঘাতে দেইফের বাবা, ভাই ও সন্তান-সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইজরায়েল। তবে, মহম্মদ দেইফের কোনও খোঁজ মেলেনি। রহস্যময় চরিত্রের মহম্মদ দেইফকে প্রকাশ্যে দেখা যায় না। তিনি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেন। সেগুলিতে তাঁর মুখ ঢাকা থাকে, নয়তো তাঁর ছায়া দেখানো হয়। দেইফকে বেশ কয়েকবার  হত্যা করার চেষ্টা করেছে ইজরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। অথচ, চলাচলের জন্য তাঁকে হুইল-চেয়ারের উপর ভরসা করতে হয়।
এদিন ইজরায়েলি ডিফেল্স ফোর্সের পক্ষ থেকে একটি টুইট করে বলা হয়েছে, “ইজরায়েলি বায়ুসেনার কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এদিন আল-ফুরকান এলাকায় ২০০টিরও বেশি জায়গায় হামলা চালিয়েছে। আল-ফুরকান জায়গাটি সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি । এখান থেকেই ষড়ষন্ত্র করে এবং হামলা চালায় হামাস।” গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, এই এলাকায় এটা তৃতীয় ইজরায়েলি হামলা বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা বাহিনী। সব মিলিয়ে ওই এলাকায় ৪৫০টি ভবনে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, হামাসের ছোড়া রকেট এবং অতর্কিত হামলা এখনও চলছে বলে জানিয়েছে ইজরায়েল। এদিন তাদের পক্ষে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
 
ইজরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে ইজরায়েলের জবাব দেওয়া চলছে। গাজায় বেড়ে চলেছে মৃত্যু সংখ্যা। রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, গাজা ভূখণ্ডে ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে জেনিন এলাকায় পিছু হটতে বাধ্য করেছে হামাস। ক্রমে, সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ছে। গাজ়ার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়, ৮৩০ জন বাসিন্দা ইজ়রায়েলি হামলায় মারা গিয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্য দিকে, আমেরিকার পাঠানো অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ইজরায়েলের নেভাটিম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে এসে পৌঁছেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অস্ত্র পেয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
ইজরায়েলের এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম থেকেই উদ্বিগ্ন আমেরিকা। সেদেশের বেশ কয়েকজন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এই সংঘর্ষে। জঙ্গিদের হাতে পণবন্দিও রয়েছেন মার্কিন নাগরিকরা। হামাসের মোকাবিলা করতে ইজরায়েলকে আরও বেশি সামরিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। দপ্তরের তরফে জানানো হয়, ইজরায়েলের পাশে থাকার বার্তা দিতেই সেদেশে যাবেন ব্লিঙ্কেন। বিশেষত ইজরায়েলের মানুষের অবস্থা নিয়েও কথা বলবেন তিনি।
 গাজা খাবার, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, জরুরি পরিষেবার জন্য অনেকাংশেই ইজ়রায়েলের উপর নির্ভরশীল। সেই জরুরি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে ইজরায়েল।  সেখানে আটকে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ প্রস্তাব দিয়েছে, গাজ়ায় আটকে পড়া নাগরিকদের বার করে আনার জন্য ‘হিউম্যানিটেরিয়ান করিডর’ তৈরি করা হোক। কারণ খাবার, জলের অভাবে গাজ়ার বাসিন্দারা ভুগছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন হামলায় আহত বহু মানুষ। রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আহত এই মানুষগুলির চিকিৎসা হওয়া দরকার। জেনেভায় হু-এর মুখপাত্র তারিক জাসারেভিক বলেন, ‘‘এই হিংসার শেষ চাইছে হু। হিউম্যান করিডর তৈরি করে আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হোক।’’

এদিকে ইজ়রাইল-হামাস সংঘর্ষে তৃতীয় কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। পুতিনের দাবি, ওয়াশিংটন শান্তি আনতে একতরফা চেষ্টা করছে।  তাঁর অভিযোগ, প্যালেস্তিনীয়দের স্বার্থ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই  আমেরিকার। তাদের স্বাধীনতার দাবিকেও উপেক্ষা করছে বাইডেন প্রশাসন। পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ জানান, ক্রেমলিন দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। সংঘর্ষ রুখতে তারা সদর্থক ভূমিকা পালন করতে চায়।  পেস্কভের হুঁশিয়ারি, এখনই সতর্ক না হলে অন্য়ান্য অঞ্চলেও অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শুধু আমেরিকা নয়, একাধিক পশ্চিমী দেশ ইজ়রায়েলকে সমর্থন জানায়। ভারতও এই কঠিন সময়ে ইজ়রায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করে ইজ়রায়েলকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির ফোনে কথাও হয়েছে।