সাংসদদের হয়ে অন্যের প্রশ্ন জমা দেওয়ায় ‘না’

দিল্লি, ১৬ নভেম্বর– সাংসদদের হয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত আপ্তসহায়কদের অনলাইনে প্রশ্ন জমা দেওয়ার অধিকার এবার নিয়ম করে কেড়ে নিতে চলেছে মোদি সরকার৷ শীতকালীন অধিবেশন থেকেই নয়া নিয়ম হতে চলেছে যেখানে সাংসদদের নিজস্ব অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা হাতে লিখেই প্রশ্ন করার করতে হবে৷ আর সাংসদদের হয়ে অন্য কেউ এই প্রশ্ন জমা দিতে পারবেন না৷
প্রশ্ন করা বিতর্কে জড়িয়েই নিজের সাংসদ পদ বাতিলের প্রায় দোড়গোড়ায় দাড়িয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মিত্র৷ এথিক্স কমিটি নিজেদের রিপোর্টে মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ বাতিল করার সুপারিশ করেছিল বলে সূত্রের খবর৷ এখনও পর্যন্ত বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের যা মনোভাব তাতে, লোকসভায় ওই রিপোর্ট পেশ হলে শাসক শিবির ওই সুপারিশকে পূর্ণ সমর্থন জানাবে৷ তবে লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ হলে, রাজনৈতিক ভাবে তিনি এবং তাঁর দল লাভবান হবে কি না, তা-ও মাথায় রাখছে বিজেপি৷
মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি তাঁর সাংসদ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানিকে দিয়েছিলেন৷ সূত্রের খবর, এর পরিপ্রেক্ষিতে লোকসভার সাংসদদের হয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত আপ্তসহায়কদের অনলাইনে প্রশ্ন জমা দেওয়ার যে অধিকার ছিল, তা আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে৷ আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে প্রশ্ন করতে হলে, সাংসদদের নিজস্ব অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা হাতে লিখেই তা করতে হবে৷ এ নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে গতকাল একটি বৈঠকেও বসে লোকসভার সচিবালয়৷ তবে আগামী দিনে আপ্তসহায়কদের অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত বৈঠকে হয়নি৷
আগামী ৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন৷ সূত্রের মতে, ওই অধিবেশনে স্পিকার ওম বিড়লা যদি মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ সংক্রান্ত রিপোর্টটি লোকসভায় পেশ করেন, রিপোর্টটিকে বিজেপি সম্পূর্ণ ভাবে সমর্থন জানাবে৷ নিশিকান্ত দুবের মতো বিজেপির একটি বড় অংশ মহুয়ার সাংসদ পদ বাতিলের পক্ষে৷
ঘুষের বদলে প্রশ্ন করার যে অভিযোগ মহুয়ার বিরুদ্ধে উঠেছিল, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট গত বৃহস্পতিবার গৃহীত হয় সংসদীয় এথিক্স কমিটির বৈঠকে৷ সূত্রের মতে, রিপোর্টে মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ বাতিল করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরকারি তদন্ত (অর্থাৎ সিবিআই এবং ইডি) করার সুপারিশ করা হয়েছে৷
রাজনৈতিক শিবিরের মতে, মহুয়ার উপর বিজেপির রাগের অন্যতম কারণ হল, গত চার বছর ধরেই মহুয়া প্রবল আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিল্পপতি গৌতম আদানির সম্পর্ক নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে এসেছেন৷ তাঁর মতো ঝাঁঝালো ভাবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করতে বিরোধী শিবিরের খুব কম সাংসদকেই দেখা গিয়েছে৷ মহুয়ার সমালোচনার জেরে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বারংবার অস্বস্তিতে পড়তে হয় সরকারকে৷
তবে একদিকে বিজেপি-র রাজ্য নেতৃত্ব যেমন মহুয়াকে বিশেষ গুরুত্ব নারাজ, আবার অন্যদিকে, তৃণমূলের কোনও শীর্ষ নেতাকে মহুয়ার পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি৷ যদিও অভিষেক মহুয়াকে সমর্থন করে সম্প্রতি কিছু বলেন৷